স্পোর্টস রিপোর্টার
ঢাকায় হাতে গোনা যে কজন ভারতীয় ফুটবলার খেলে গিয়েছেন, তাদের মধ্যে সৈয়দ সাবির পাশা অন্যতম। ১৯৯৯ হতে ২০০১, তার আবাহনীর জার্সি গায়ে আক্রমণভাগে খেলার কথা মনে আছে অনেকের। সেই সাবির পাশা এবার ঢাকায় এসেছেন চেন্নাইন এফসির সহকারী কোচ হয়ে। আর এসেই স্মৃতিকাতরতার মধ্যেও জানাতে ভুললেন না তারা ভালো খেলতেই এসেছেন।
এএফসি কাপ ফুটবলে চেন্নাইন এফসির বিপক্ষে স্বাগতিক আবাহনীর খেলা আগামীকাল। চেন্নাইন এফসি ঢাকায় এসেছে রবিবার সন্ধ্যায়। গতকাল দুপুরে আবাহনী মাঠে গিয়েছে অনুশীলন করবে। তাদের ইংলিশ কোচ জন গ্রেগরি কারো সঙ্গে কথা বলতে রাজি না। এমনকি অনুশীলনের সময় কোনো সংবাদমাধ্যমকেও চোখ রাখতে দিতে রাজি না। সবাইকে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ তাদের।
আবাহনীর খোলা মাঠ, এটা ঢেকে রাখার মতো স্টেডিয়াম নয়। তারপরও রুদ্ধদ্বার অনুশীলন। জিনেদিন জিদানের ঢুঁশ খাওয়া মাতারাজ্জি ছিলেন চেন্নাইয়েনের কোচ। তিনি চলে যাওয়ায় এখন দায়িত্বে গ্রেগরি। গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে তার মুখে কুলুপ। সৌজন্য বজায় রাখতে এক আধটু যা বলার সাবির পাশাই বললেন।
বাংলাদেশের লিগে খেলেছেন বলে সেই প্রসঙ্গই উঠে আসল বারবার। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় দল নিয়ে এসেছিলেন সাবির পাশা। এবার এলেন ক্লাব ফুটবল দল নিয়ে। আবাহনী মাঠে গিয়ে ক্লাব ভবনের দিকে তাকিয়ে যেন নষ্টালজিক হয়ে পড়লেন। এই মাঠে অনুশীলন করেছেন। গাছে উঠে আম পেড়েছেন। কতো কথা তার মনে পড়ে গেল। দোতালায় কোনার রুমে থাকতেন। তখন মিডফিল্ডার ইকবালও ছিলেন তার রুমে।
এত দিন পর এসেছেন বলে নিজের রুমটা দেখতে গেলেন সাবির পাশা। ইকবাল, জাকির, আরমান মিয়া, আরিফ খান জয়, গোলকিপার বিপ্লবসহ এই সব ফুটবলার তখনকার সঙ্গী সাবির পাশা। ইকবাল খবর পেয়ে ক্লাবে গিয়েছিলেন দুজনে দারুণ খুশি অনেক দিন পর দেখা হওয়ায়। স্মৃতিকাতর হয়ে পড়া সাবির পাশা বলছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে আমি যেন বাড়ি ফিরে এসেছি।’ সাবিরের কথার সুরে বোঝা যাচ্ছিল তার নাড়ির টানের মতো কিছু। ১৯৯৩-২০০১ ভারতীয় জাতীয় দলে খেলেছেন তিনি। ৪৬ বছর বয়সী এই সাবেক ফুটবলার বলছিলেন, ‘ইষ্টবেঙ্গল, মোহনবাগানে খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি বিদেশের লিগে খেলতে চেয়েছিলাম। তাই আমি আবাহনীতে খেলতে এসেছিলাম। এখানকার পরিবেশ ছিল দারুণ উপভোগ্য। আবাহনীর হয়ে খেলাটা আমার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। মোহামেডান-আবাহনী খেলায় অনেক দর্শক আসতেন।’
চেন্নাইন ফুটবল ক্লাব এরই মধ্যে আবাহনীকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। আত্মঘাতী গোলে জয় পাওয়া চেন্নাইনের সহকারী কোচ সাবির পাশা বললেন, ‘আহমেদাবাদে আমরা ১-০ গোলে জিতলেও আবাহনী ভালো খেলেছিল। সেদিন আমরা ভালো খেলিনি। আবাহনীর বেশ কিছু ভালোমানের বিদেশি আছে। যারা যে কোনো সময় ভয়ংকর হতে পারে। আমাদের কথা যদি বলি আত্মঘাতী গোলে জিতলেও সেদিন আমরা ভালো খেলিনি। আর সব সময় ভালো খেলা যায়ও না। আমরা এই ম্যাচে ভালো খেলব। খেলতে হবে। আমরা এখানে খেলার জন্য প্রস্তুত। আবাহনী ভালো দল। আমরা সমীহ করি।’
