এশিয়া র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো নাম নেই। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং-এর দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২৫০০-এর উপরে। অনেকে ধরেই নিয়েছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধার অভাব আছে, শিক্ষার মান ভালো নয়। শিক্ষকরা ভালোভাবে গবেষণা করে না, আর ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়ার কাছে যায় না। হাজার প্রশ্ন সবার মনে। আমি বলি এশিয়া র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নাম না থাকলে কি হয়েছে? জ্ঞানচর্চার দিক দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক এগিয়ে । সবচেয়ে বড় সত্যি হলো আমাদের দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য যত লেখাপড়া করা লাগে তা আর অন্য কোনো দেশের শিক্ষার্থীদের করতে হয় না।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তিযুদ্ধের কথা শুনে আমার পিএইচ.ডির সুপারভাইজার প্রফেসর Agnieszka Makarewicz ইউনিভারসিটি অফ Wroclaw বলেছেন- আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার মতো জ্ঞান তার নাই। অথচ আমার ইউনিভারসিটি থেকে ৯ জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। প্রফেসর Agnieszka Makarewicz অক্সফোর্ড ইউনিভারসিটির ইন্টার্নশিপ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টার্নশিপ করবেন জুলাই মাসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনভাইটেশন পেয়ে সে খুব আনন্দিত।
অনেকে ভাবতে পারেন আমি এ কথাগুলো কেন বলছি কারণ আমাদের দেশের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মেধা আছে, ধৈর্য আছে, ইচ্ছা ও শক্তি আছে। তাহলে আমরা কেন এশিয়ার র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে আমাদের নাম নেই ? কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২৫০০’র উপরে।
আমাদের জানা দরকার কোন্ কোন্ ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাংকিং করা হয়ে থাকে।
ছয় ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং হয়ে থাকে। ১.অ্যাকাডেমিক রেপুটেশন ৪০ %। ২. বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুনামের উপর ১০%। ৩. শিক্ষার্থীদের সংখ্যার অনুপাতের উপর ২০%। ৪.বিষয়ভিত্তিক গবেষণার উপর ২০%। ৫. আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের অনুপাতের উপর ৫%। ৬.আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনুপাতের উপর ৫%। সর্বমোট ১০০ নাম্বার।
এখন দেখা যাক এই ছয় ক্যাটাগরিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান কোথায়। গবেষণা নাই বললেই চলে, বিষয়ভিত্তিক গবেষণা খুবই কম। নোবেল প্রাইজ ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারের সংখ্যা প্রায় শূন্য। শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা খুবই কম। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অভাব তাহলে কেন আমাদের নাম থাকবে।
শিক্ষার মান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিকমানের আনতে হলে নিচের সুপারিশগুলো দেখা যেতে পারে— ক. গবেষণাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে এবং বিষয়ভিত্তিক গবেষণা বাড়াতে হবে। খ. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদেরকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার জন্য নতুন নতুন গবেষণা করতে হবে। গ. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সংখ্যা কমাতে হবে ১৫:১ অর্থাত্ ১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। ঘ. নতুন করে আরো শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। ঙ. আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করার জন্য বিশ্বের অন্য দেশ থেকে প্রফেসর দ্বারা গবেষণা করাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার, কনফারেন্স এবং ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে । চ. বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে তাহলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করবে।
এই শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে পারলেই আমাদের মেধা ও শক্তি দিয়ে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি আশাকরি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এইদিকে বিশেষভাবে নজর দিবেন।
nলেখক :পিএইচ.ডি ক্যান্ডিডেট অ্যান্ড টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ইনস্টিটিউট অফ ওরুক্লো পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভারসিটি অফ পোল্যান্ড।
