বুকাননের পদত্যাগ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৩, ২১:৩৫
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জন বুকানন। আর তার এই সিদ্ধান্তের সাথে সাথেই নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সেটা কার্যকর করা হয়েছে। তাই অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই কোচ পদত্যাগ করেছেন, নাকি বরখাস্ত হয়েছেন সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘পারিবারিক’ কারণে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুকানন। তবে এ ব্যাপারে বুকাননের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ৬০ বছর বয়সী বুকানন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন, নাকি তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ছেড়ে দিতে হচ্ছে বলে ২০১১ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেয়া বুকানন মর্মাহত। কারণ, এখানে কাজ করাটা বেশ উপভোগ করছিলেন তিনি। তবে পারিবারিক কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বুকানন। বিদায়ী ক্রিকেট পরিচালকের প্রতি শুভকামনাও প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, ‘দেশে ফেরার ব্যাপারে বুকাননের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে বোর্ডের। আমরা আশা করছি, তার আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর হবে।’ নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন বুকাননের স্বদেশি কিম লিটলজন। আগামী সেপ্টেম্বরে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আজ বোর্ডের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, লিটলজনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে না। অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিশ্বকাপ জয়ী কোচ বুকাননের কাজ ছিল নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের হাই পারফরম্যান্স কর্মসূচি নিয়ে। শুরুর দিকে দলের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় গত বছরের মাঝামাঝিতে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জন রাইট। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, বর্তমান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না বুকাননের। সমপ্রতি দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে হেসনকে বাড়তি ক্ষমতা দেয় কিউই বোর্ড। ক্রিকেটারদের জাতীয় চুক্তি ও ঘরের মাঠের সিরিজের দল চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয় তার হাতে। অধিনায়কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিদেশ সফরের দল চূড়ান্ত করার দায়িত্বও ছিল তার। ক্রিকেট পরিচালক বুকানন নাকি হেসনকে এত সব ক্ষমতা দেয়ার পক্ষে ছিলেন না। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দীর্ঘ ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন বুকানন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তার ওই সময়কালটিকেই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের সোনালী সময় হিসেবে মনে করা হয়। তারা তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপাসহ রেকর্ড পরিমাণ টানা ১৬টি টেস্ট ম্যাচ জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে। গত বছরের শেষ দিকে নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়ক হিসেবে বুকানন রস টেইলরকে সমর্থন দিলেও কোচ মাইক হেসনের সমর্থনপুষ্ট ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে দলীয় অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন বুকানন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার শর্তে ২০১১ সালের মে মাসে নিউজিল্যান্ড বোর্ডে যোগ দেন বুকানন। তার দায়িত্ব ছিল দলের কোচিং দর্শন চূড়ান্ত করা। সেই সঙ্গে দলের মেধাবীদের সনাক্ত করা। নির্বাচক প্যানেলকে সহযোগিতা করাও তার দায়িত্বের অংশ ছিল।