মোটরবাইক, একসময় এটা আভিজাত্য, বিলাসিতা কিংবা ফ্যাশন হিসেবে প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে যানজটসম্পন্ন ব্যস্ততম নগরীর দ্রুত যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে। তাই মোটরবাইক চালানোতে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাইড শেয়ারিং-এর মাধ্যমে মানুষদেরকে সেবা দিচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ওরা লাভবানও হচ্ছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় মোটরবাইক দুর্ঘটনায় মানুষ আহত কিংবা নিহত হচ্ছে। মোটরবাইক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যে ব্যবস্থাগুলোর কথা বলা হয়ে থাকে তার মধ্যে হেলমেট অন্যতম। মোটরবাইক দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ মানুষ মারা যায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে। আর হেলমেট সেই মাথাকে সেইফ করে। সরকার বা প্রশাসন হেলমেট ব্যবহারের জন্য রাইডার এবং প্যাসেনজারদেরকে চাপ প্রয়োগ করেছে। এবং অমান্য করলে ১৪৯ ধারায় মামলার কথাও বলা হয়েছে। যার ফলে এখন অধিকাংশ রাইডার এবং প্যাসেনজারের মাথায় হেলমেট দেখা যায়। কিন্তু অ্যাপভিত্তিক মোটরবাইকগুলো যেমন পাঠাও, উবার, ওভাই ইত্যাদির হেলমেটগুলো কতটুকু মানসম্পন্ন কিংবা টেকসই? এগুলো কি দুর্ঘটনায় মাথা সংরক্ষণে সক্ষম? নাকি তারা দায়সারাভাবে হেলমেট মাথায় দিচ্ছে? ওদের হেলমেটগুলো একেবারেই হালকা। এই হেলমেটগুলো পুরো মাথাও কভার করে না। ফলে মাথায় আঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
কিছুদিন আগেকার কথা, আমি সংসদ ভবনের পিছনের রাস্তায় দাঁড়ানো। আমার সামনে দিয়ে একটা মোটরবাইক অতিক্রম করার সময় প্যাসেনজারের মাথায় থাকা হেলমেটটা উড়ে গিয়ে অনেক দূরে পড়ল। এই যদি হয় হেলমেটের অবস্থা তাহলে কিভাবে তা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবে? তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বরাবরের ন্যায় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগেই তদারকির মাধ্যমে জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
nলেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
