অ্যাপল’র সিরি বা গুগল গ্লাসের মতো ডিভাইসের কল্যাণে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এখন বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসকে নির্দেশনা প্রদান করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কণ্ঠ-নির্দেশের মাধ্যমেই চালানো যাচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন এবং ডিভাইস। কিন্তু যারা বধির অর্থাত্ কথা বলতে অক্ষম, তাদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা প্রদান করবে না এই প্রযুক্তিও। তাদের সহায়তা করার জন্যই এবারে মাইক্রোসফটের কাইনেক্টকে ব্যবহার করেছেন চীনের একদল গবেষক। আর তারা উইন্ডোজ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট (এসডিকে) ব্যবহার করে কাইনেক্টেরে মাধ্যমে সরাসরি ইশারাকে টেক্সটে রূপান্তর করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। মাইক্রোসফট রিসার্চ এশিয়া এবং চাইনিজ একাডেমী অব সায়েন্সের ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটিং টেকনোলজি যৌথভাবে কাইনেক্টকে ব্যবহার করেছেন ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্রে হাতের নড়াচড়াকে পূর্ণাঙ্গভাবে সনাক্ত করার কাজে। আরজিবি ক্যামেরা এবং কাইনেক্টের ডেপথ-সেন্সিং ইনফ্রারেড ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি থেকেই সনাক্ত করা হয় হাতের নড়াচড়া। এই প্রযুক্তিতে ত্রিমাত্রিক গতির নির্দেশনা বুঝার জন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ এক অ্যালগরিদম। হাতের নড়াচড়াকে কাইনেক্টের মাধ্যমে সনাক্ত করার সাথে সাথেই তা কম্পিউটিং ডিভাইসে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং কম্পিউটিং ডিভাইস এই ভিজ্যুয়াল ডাটাকে তার নিজস্ব তথ্যভাণ্ডারের সাথে মিলিয়ে নেয়। সাথে সাথেই এই ইশারাগুলোকে টেক্সটে রূপান্তরের কাজও হয়ে যায় এর মাধ্যমে। ফলে কথা বলতে পারেন না, এমন যে কেউ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তার ইশারা দিয়েই মনের ভাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝাতে পারবেন কোনো কম্পিউটিং ডিভাইসকেও। ফলে বিশ্বব্যাপীই বাক-প্রতিবন্ধীদের জন্য এটি একটি আশির্বাদ হয়ে আসবে বলেই ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। বাণিজ্যিকভাবে কবে নাগাদ এই প্রযুক্তিকে বাজারজাত করা হবে, সে পরিকল্পনা সম্পর্কে অবশ্য এখনও কিছু জানাননি গবেষকরা।
