হুমকিতে বাঘগুজারা রাবার ড্যাম

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২১:৫৯

চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চকরিয়ার মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন ব্যবহারের কারণে বাঘগুজারা পয়েন্টে পাউবোর রাবার ড্যাম হুমকিতে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ফেটে বিকল হলে মিঠাপানির সেচ সুবিধা দিয়ে চাষাবাদ ব্যাহতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত কেয়ারকেটারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাবার ড্যামের কেয়ারটেকার আবদুর রহিম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মাতামুহুরী নদীর বরইতলী-কোনাখালী পয়েন্টে নির্মিত কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঘগুজারা রাবার ড্যামের উপর দিয়ে বালু উত্তোলনের জন্য শক্তিশালী একাধিক ড্রেজার মেশিন পারাপার করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ইতোমধ্যে গত ৬ মে রাতে দুইটি শক্তিশালী ড্রেজার পারাপারও করেছে তারা। বর্তমানে আরো তিন-চারটি ভারী ড্রেজার পারাপারে চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, রাবার ড্যামের উপর দিয়ে এভাবে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন পারাপার না করতে প্রথমে আমি ও ড্যামে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা বাধা দেই। এতে তারা থামেনি। সে কারণে ঘটনাটি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাউবোর চকরিয়া অঞ্চলের দায়িত্বরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও শাখা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। ভারী ড্রেজার পারাপারে যে কোনো মুহূর্তে রাবার ড্যামটি ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের পাহারায় রেখে কয়েকটি ড্রেজার নদীতে আটকে রেখেছি। এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা (এসও) এসএম তারেক বিন সগীর বলেন, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আইনগত সহায়তা চেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, মাতামুহুরী নদীতে ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দে নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুইটি রাবার ড্যামের সাহায্যে নদীর মিঠাপানি আটকে প্রতিবছর চকরিয়া-পেকুয়ার অন্তত ৬০ হাজার কৃষক চাষাবাদে সেচ সুবিধা নেন। কিন্তু শক্তিশালী ড্রেজার পারাপারে রাবার ড্যামের ক্ষতি হলে চাষাবাদ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।