বিদায় নাকি নতুন লড়াই?

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২২:১৮
অন্য কেউ হলে নিঃসন্দেহে বলে ‘শেষ’ বলে দেয়া যেত; কিন্তু মানুষটি যখন টিটো ভিলানোভা, তখন আর সেটা বলা যাচ্ছে না। বার্সেলোনার কোচ হিসেবে গত শুক্রবার রাতেই সরে দাঁড়িয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ। কিন্তু লড়াইটা এখানেই শেষ নয়; নতুন লড়াইয়ে তার প্রতিপক্ষ মরণব্যাধি ক্যান্সার। সেই ২০১১ সালের নভেম্বর মাসেই তার ক্যান্সারে আক্রান্ত থাকার ব্যাপারটা প্রথম ধরা পড়ে। তখন টিউমার অপসারণ আর কেমোথেরাপিও শুরু করেন চিকিত্সকরা। এর ১৮ দিন পরেই আবার মাঠে ফিরেন, মূল কোচ হিসেবে যোগ দেন বার্সেলোনাতে। তবে, এবার আর হল না। এই ক্যান্সারের কারণেই বার্সেলোনার কোচের পদটা আর ধরে রাখা সম্ভব হল না টিটোর। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব কথাই বললেন কাতালান ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট স্যান্দ্রো রোসেল, ‘তাকে নিয়মমাফিক কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর তার রোগকে আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হলে তাকে নিয়মিত নজরদারীতে থাকতে হবে। তাই এই মুহূর্তে টিটোর পক্ষে বার্সেলোনার মূল দলের কোচিং করানো প্রায় অসম্ভবই বলা যায়।’ ক্লাব প্রেসিডেন্ট ভিলানোভার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ক্লাবের জন্য ‘ভয়ানক ধাক্কা’ হিসেবেই দেখছেন। আর জানালেন এই অবস্থান থেকে শীঘ্রই উঠে দাঁড়াবে তার ক্লাব, ‘কিছুদিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা নতুন কোচের নাম ঘোষণা করবো। আর সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহতেই এই ব্যাপারে ঘোষণা আসবে।’ এই সঙ্কটময় অবস্থাতে বার্সেলোনার প্রাক মৌসুম প্রস্তুতিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাতিল করা হয়েছে দলটির পোল্যান্ড সফর। আর এই সঙ্কট যতোটা না কোচ না থাকার কারণে তার থেকে বেশি বরং টিটো ভিলানোভার এই আকস্মিক বিদায়ে। গোটা ক্লাবেই এখন শোকের আবহ। সেই শোকটা ছুঁয়ে যাচ্ছে মেসি পুয়োলদেরও। গত শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমের সামনে রোসেল ছাড়াও ছিলেন ক্লাবটির স্পোর্টিং ডিরেক্টর অ্যান্দোনি জুবিজারেতা। টিটো না থাকলেও ছিলেন কোচিং স্টাফের বাকি সদস্যরা; ছিলেন মূল একাদশের প্রায় প্রত্যেকেই, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে অধিনায়ক কার্লোস পুয়োর সবাই ছিলেন। বার্সেলোনার তারার মেলায় কোন আনন্দ ছিল না; মলিন মুখে সবাই পাড় করেন সংবাদ সম্মেলন। সাংবাদিকরা কোন প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি। মাত্র তিন মিনিটেই শেষ হয়ে যায় সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা। মাত্র এক মৌসুম আগেই পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর বার্সেলোনা’র মূল কোচের দায়িত্ব পান ভিলানোভা। কিন্তু সেই সময়টাও পুরোপুরি দলের সাথে থাকা হয় নি তার। মাঝের দুই মাস ক্যান্সারের চিকিত্সার জন্য নিউইয়র্কে কাটাতে হয়। এই সময়টাতে সহকারী কোচ জর্ডি রৌরা দলের সাথে ছিলেন। অল্প সময়ের জন্য হলেও টিটোর জন্য সময়টা ছিল বেশ সাফল্যময়। আরেক স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে প্রায় উড়িয়ে দিয়ে জয় লা লিগার শিরোপা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও শেষ চারে খেলেছে তার দল। কিন্তু এখানেই থামতে হল, থামতে হল ক্যান্সারের কারণে। কিন্তু যুদ্ধটা কি শেষ হচ্ছে! না, শেষ যুদ্ধের ফলাফলটা আর যাই হোক না কেন ভক্তদের কাছে সাফল্যময় এক কোচের আসনেই থাকবেন টিটো।