কমছে ফসলি জমি বাড়ছে পুকুর

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২২:০০

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

তাড়াশে  দিন দিন ফসলি জমির পরিমাণ কমছে আর বাড়ছে পুকুরের সংখ্যা। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো পুকুর রয়েছে। এরপরও ঊর্বর ফসলি জমি কেটে আশঙ্কাজনকহারে পুকুর খনন করা হচ্ছে। ফসল উত্পাদন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টায়ই ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় অনেক কৃষক জানিয়েছেন। একই সাথে চলছে খাল-বিল দখল ও ভরাট। আর ড্রাম ট্রাকের মাটি আর ধুলার আস্তরণে বেহাল হচ্ছেন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলো। 

সরেজমিনে জানা গেছে, বিগত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে খনন যন্ত্র (এক্সেভেটর) দিয়ে পুকুর খননের কাজ। ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর খনন করা হয়ে গেছে। এখনো অর্ধশতাধিক পুকুরের খনন কাজ চলছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহিম, জামালউদ্দিন, আশরাফ আলী, শহিদুল ইসলাম, সোনা মিঞা ও শাজাহান সরকার জানান, ফসল উত্পাদনে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাই লাভের আসায় পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন তাদের মতো অনেকেই। এসব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা অর্থের বিনিময়ে মাছ চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন। এদিকে খাল-বিল, নয়নজুলি ও জলাধারগুলো ক্রমান্বয়ে দখল ও ভরাটের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। গণহারে ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে পুকুরের পাড় বেঁধে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আবার পানি প্রবাহের পথ ও ব্রিজের মুখে মাটি ফেলেই তৈরি করা হচ্ছে বসতঘর। শুধু তাই নয়, সড়কের ধারে যেসব পুকুর খনন হচ্ছে সেখানে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোকে পুকুরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে ইতোমধ্যে ওইসব সড়কের বেশ খানিকটা অংশ পুকুরেই বিলীন হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কৃষকদের যথেষ্ট ইচ্ছার প্রেক্ষিতেই তারা জমি কেটে পুকুর খনন করে দিচ্ছেন। আর সবকিছু ম্যানেজ করেই তা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিবছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি, কমে যাচ্ছে ঊর্বর আবাদি জমি। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। একই সাথে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন এবং সরকারি খাল ও যত্রতত্র জলাধার ভরাট করায় অসময়ে দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিবছর বন্যার পানিও তুলনামূলক ধীরগতিতে নামছে। ফলে সময়মতো বোরো ও আমন ধানের আবাদ করা এবং ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় কাটছে না কৃষকের।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.ওবায়দুল্লাহ বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কয়েকদিন হলো যোগদান করেছেন। তবে এখন থেকে পুকুর খনন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সাথে খাল-বিল দখল ও ভরাট করে পানি প্রবাহের পথে যারা বাধার সৃষ্টি করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।