জয়ের সুযোগ ছিল দুদলেরই। তবে শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেও জয় পেল না কেউই। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডেতে গত শুক্রবার সেন্ট লুসিয়ার দর্শকরা দেখলো একটি নাটকীয় ‘টাই’ ম্যাচ। সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েও সেটিকে কাজে লাগাতে না পেরে ম্যাচ শেষে হতাশা ব্যক্ত করেছেন দুদলের অধিনায়কই। তবে এই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা আজই। সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে একই ভেন্যুতে আজ খেলতে নামবে দুদল।
সফরকারীদের ২২৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য ম্যাচের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ওয়াহাব রিয়াজের করা ম্যাচের ঐ ওভারে স্বাগতিকরা তুলে নেয় ১৪ রান। ফলে টাই ভাগ্য বরণ করে ম্যাচটি।
এর আগে অবশ্য ম্যাচের পাল্লা ভারী ছিল পাকিস্তানের দিকেই। বোলিং সহায়ক উইকেটে মিসবাহ উল হকের দল শুরু থেকেই চেপে ধরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ফলে অপেক্ষাকৃত কম রানের পিছু ছুটেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। আটচল্লিশতম ওভারে যখন নবম ব্যাটসম্যান সুনীল নারিন বিদায় নেন, জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের তখনও দরকার ২৫ রান। তবে পেসার জ্যাসন হোল্ডারের নয় বলে ১৯ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংসে শেষ পর্যন্ত সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
হোল্ডারকে কৃতিত্ব দেয়ার পাশাপাশি মিসবাহ দলের এমন ফলের পেছনে দায়ী করলেন ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেও। তিনি বলেন, ‘হোল্ডার যেভাবে খেলেছে ম্যাচটি আসলে তাতেই বেরিয়ে গেছে। শেষ ওভারে আমরা অনেকগুলো ফুল ডেলিভারি করেছি। আমার মনে হচ্ছিল ২২৯ লড়াকু একটা সংগ্রহই। তবে আমাদের বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত দিতে হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন. ‘আমাদের ইনিংসে প্রচুর ডট বল ছিল। আমার মনে হয় আমরা কমপক্ষে ৩০ রান কম করেছি।’
অন্যদিকে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভো মনে করছেন জয়টা তাদেরই প্রাপ্য ছিল। টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই দলকে নিশ্চিত জয় বঞ্চিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। এটা এমন একটা ম্যাচ ছিল যা আমরা জিততে পারতাম। ম্যাচটি এমন পরিস্থিতিতে আসাই উচিত হয়নি যে, এটা জেতার জন্য লোয়ার অর্ডারের সাহায্য নিতে হয়।’
ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি ডট বল দিয়ে ফেলেছেন, মিসবাহর মতো নিজেদের ব্যাটসম্যানদের দিকে এমন অভিযোগ করলেন এই অলরাউন্ডারও। তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ের খেলায় এত বেশি ডট বল আসলেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আমাদের বোলিং নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এর আগে মিসবাহ’র ৭৫ এবং শেষ দিকে উমর আকমলের ঝড়ো ৪০’র উপর ভর করে নির্ধারিত ওভার শেষে ছয় উইকেটে ২২৯ রান করে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান আসে লিন্ডল সিমন্সের ব্যাট থেকে। দুই দলের দুই সর্বোচ্চ সংগ্রাহক যৌথভাবে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।
