সিংড়ায় শত বছরের ‘অচিন গাছ’

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২২:০১

রাজু আহমেদ, সিংড়া ( নাটোর) সংবাদদাতা

সুপ্রাচীন এক জনপদ নাটোর। নাটোর জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা রকম প্রাচীন নিদর্শন। জেলার সাতটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে রয়েছে, কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়েছে অনেক বৃক্ষ, তাদের মধ্যে একটি “অচিন”গাছ, কত কালের সাক্ষী বহন করছে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। গাছটির সঠিক পরিচয়ও কেউ জানেন না। এলাকার সব থেকে পুরনো লোকটিও ছোট থেকেই এই গাছটিকে দেখছেন এমন অবস্থায়।

নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ০১নং সুকাশ ইউনিয়নের ০৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুলশী গ্রাম। এই গ্রামেই কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই “অচিন” গাছ ।

সমান্তরাল ভূমি থেকে পাহাড়ের মতন প্রায় ১৫ ফিট উঁচুতে এবং প্রায় ৫০ ফিট উচ্চতা ও চতুরপার্শ্বে আয়তনে প্রায় ১৫০ স্কয়ার ফিট, এর মূল আবাস, অসাধারণ কারুকাজ সজ্জিত শেকড় বহন করছে সুপ্রাচীনকালের সাক্ষী হয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ৬০ বছরের বৃদ্ধা আবুল কালাম জানান, গাছটি ঠিক কত বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছে তার দাদাও তাকে বলতে পারেনি। এলাকার আরেক বাসিন্দা ৬৫ বছরের মো. মোকছেদ আলী জানান, গাছটিত আঙুর ফলের মত ফল ধরে। বৈশাখ মাসের শেষে এই ফল পাকে, পাকলে তা অত্যন্ত সুস্বাদু হয়। এলাকার ছোট ছোট বাচ্চারা এবং অনেক মানুষ এই ফল খান।

এই গাছটি নিয়ে নানা রকম গল্প প্রচলিত রয়েছে। গ্রামবাসী ও আশেপাশের মানুষের বিশ্বাসের একটি বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে এই খিরির গাছ।

সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, অচিন এই প্রাচীন বৃক্ষটি সম্পর্কে কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। আমরা এই গাছটিকে অচিন গাছ হিসেবেই জানি। তবে এই গাছটির পাতা এবং ডালসহ বিস্তারিত তথ্য আমরা গবেষণাগারে প্রেরণ করেছি যাতে এই গাছটি সম্পর্কে জানতে পারি। গাছটি রক্ষার জন্য এমর্মে একটি আবেদন করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এই গাছটির চতুরদিক বাঁধাই করার জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা প্রতিনিয়ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সব সময় নজর রেখেছি।