সালথায় আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িবহরে প্রতিপক্ষের হামলা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৬
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফরিদপুর-সালথা আঞ্চলিক সড়কের মাদ্রাসা গট্টি এলাকায় গতকাল শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর (অবঃ) আতম হালিমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আতম হালিম, তার ভাতিজা পিন্টু ও দেহরক্ষী জাহাঙ্গীর। এছাড়াও আহত হয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন, সাহেব মিয়া, রাসেলসহ হালিমের ১৫ সমর্থক। সালথা নগরকান্দা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আতম হালিমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় গাড়িবহরে থাকা সাংবাদিকদের গাড়িসহ ১০টি গাড়ি ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। হালিমের ব্যক্তিগত গাড়িসহ দুইটি গাড়িতে আগুন দেয় হামলাকারীরা। হালিমসহ আহতদের প্রথমে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুরের পর অবস্থা গুরুতর হলে হালিমকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা সিএমএইচের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। হালিমের গাড়িতে থাকা ২২ লাখ টাকা, তার ব্যক্তিগত পিস্তল এবং দেহরক্ষীর কাছ থেকে শর্টগান ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।জানা গেছে, বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও ইফতার মাহফিলে যোগ দেয়ার উদ্দেশে আতম হালিম শনিবার সকালে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে আসেন। ফরিদপুর থেকে শতাধিক মাইক্রোবাসের একটি বহর নিয়ে তিনি নিজ এলাকা নগরকান্দার উদ্দেশে রওয়ানা হন। পথে সালথা উপজেলার মাদ্রাসা গট্টি নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে হালিমের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। ফরিদপুর ২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতার শোডাউন প্রতিহত করতে সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গ্রুপের নেতাকর্মীরা এই অবরোধ ও হামলার ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানায়। তারা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ওদুদ মেম্বার, রেজাউর রহমান চয়ন, আবু জাফর মিয়া, হাবিব, মুন্নুসহ ৬০/৬৫ ব্যক্তি এ হামলা চালায়। সড়কি, বল্লম, লোহার রড, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা গাড়িবহরে চড়াও হয়ে ১০টি মাইক্রোবাস ভাংচুর ও আতম হালিমের গাড়িসহ দুইটি গাড়ি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। হামলার শুরুতে হালিম আত্মরক্ষার্থে তার পিস্তল থেকে ১ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়েন। কিন্তু তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। হামলাকারীরা হালিমের পিস্তল ও তার দেহরক্ষীর কাছে থাকা শটগান ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করে। তারা হালিমের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের আগে গাড়িতে থাকা ল্যাপটপ ও নগদ ২২ লাখ টাকা লুট করে বলে অভিযোগ করেন হালিমের ভাতিজা পিন্টু। সালথা থানার ওসি আফসার উদ্দিন জানান, তিনি খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গেছেন। হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সাজেদা চৌধুরীর এপিএস জামাল হোসেন বলেন, এটা হামলা নয়, জনগণের ‘স্বতস্ফূর্ত প্রতিরোধ’। তিনি বলেন, আতম হালিম প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’র (পিডিপি) ফরিদপুর জেলার আহবায়ক। সেনা সমর্থিত পিডিপিকে জনগণ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই দলটির নেতা হালিমকে প্রতিহত করতে সালথা নগরকান্দার জনগণ এ প্রতিরোধের সৃষ্টি করে।