সাংবাদিকদের মারধর করায় এমপি রনির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৭
সাংবাদিকদের মারধর করার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেছে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। রনি পটুয়াখালি গলাচিপা আসনের সংসদ সদস্য। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজার ৯ তলায় অবস্থিত রনির অফিসে হামলার শিকার হন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান তালাশের সাংবাদিক ইমতিয়াজ মোমিন সনি ও ক্যামেরাপারসন মহসিন বকুল। এ সময় তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানমূলক ‘তালাশ’ এর সংবাদ সংগ্রহের জন্য তারা সেখানে গিয়েছিলেন। গতকাল বিকালে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুছ আলী বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভাংচুরের অভিযোগে এ মামলা করেন। মামলায় রনিসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ দিকে হামলায় গুরুতর আহত ক্যামেরাপারসন মহসিন বকুলকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অপরদিকে রাতে বেসরকারী টেলিভিশন স্টেশন ইনডিপেনডেন্টের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন সরকার দলীয় এমপি গোলাম মাওলা রনি। শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বেশকিছু অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে গোলাম মাওলা রনি ইত্তেফাককে জানান, ঐ দুই সংবাদকর্মী তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেয়ায় ৪/৫ দিন ধরে তারা তার অফিসের সামনে ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি করছে। আজ তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি জিডিও করবেন বলে জানান তিনি। তবে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানী টিম ‘তালাশের’ প্রতিবেদক অপূর্ব আলাউদ্দিন জানান, তাদের কাছে খবর ছিল, একজন সরকারি কর্মকর্তা সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে দুই কোটি টাকা ঘুষ দিবেন। তাই তার অফিসের প্রবেশ মুখে ৩/৪ দিন থেকে ক্যামেরা সেট করে রাখা হয়েছিল। আজ (শনিবার) দুপুর ১টার দিকে সংসদ সদস্য রনি ‘তালাশ’ প্রতিবেদক ইমতিয়াজ মোমিন সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন বকুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তিনি ক্যামেরাটি মেঝেতে আছাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলেন। এছাড়া তার সঙ্গে থাকা ৩/৪ জন ব্যক্তিগত সহকারীও সংবাদ কর্মীদের উপর হামলা করে। হামলায় আহত সাংবাদিক ইমতিয়াজ মোমিন সনি জানান, রনির নির্বাচনী এলাকার এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একটি কাজ পাওয়ার জন্য রনিকে ঘুষ দিতে পারে একটা তথ্য তালাশ টিমের কাছে ছিল। সেজন্য গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তার অফিসে আসি। উপস্থিতি টের পেয়ে রনি আমাদের গালাগালি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরাম্যান ও আমার গায়ে হাত তোলেন। পরে তার লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে সাংবাদিক নেতারা রনির অফিসে উপস্থিত হন এবং আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, ডিআরইউ সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেন। এ সময় সাংবাদিক নেতাদের কাছে গোলাম মাওলা রনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তিনি ইন্ডিপেনডেন্টের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের কথা বলেন।