আজ ১১ রমজান। মাগফেরাতের দশকের প্রথম দিন । সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদের একটি মাস সিয়াম সাধনার প্রথম দশ দিন পালন করিয়ে নিয়েছেন। আমরা প্রার্থনা করছি বাকি দু’টি দশকও যেন সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ফরজ ও নফল ইবাদত-বন্দেগী আরো গভীর মনোনিবেশের সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারি। বিগত রোজাগুলো যারা ছেড়ে এসেছেন তারা আজ থেকে তওবাহ করে সংযম সাধনায় ফিরে আসুন। কেননা পৃথিবীর জীবন আসল জীবন নয়। এই জীবনের পরে আরেকটি অনন্ত জীবন আছে। যেখানে নেকআমলবিহীন হাজির হলে তাকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বিভীষিকাময় জাহানন্নামের আগুনে তাকে দগ্ধিভূত হতে হবে। ইসরাফিল (আ.)-এর শিংগায় ফুঁত্কারের মাধ্যমে যার সূচনা হবে। ‘যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, অতঃপর আল্লাহ্ যাদের ইচ্ছা করবেন, তারা ছাড়া আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে, তারা সবাই হতবিহব্বল হয়ে পড়বে এবং সকলেই তার কাছে আসবে বিনীত অবস্থায়। তুমি পর্বতমালাকে দেখে অচল মনে করো, অথচ সেদিন এগুলো মেঘমালার মতো চলমান হবে। এটা আল্লাহর কারিগরি, যিনি সবকিছুকে করেছেন সুসংহত। তোমরা যা কিছু করছো তিনি তা অবগত আছেন’ (সূরা নমল ৮৭-৮৮)।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ্ (স.) বলেছেন, দুই ব্যক্তি কাপড় বেচা-কেনা করছে, কাপড় সামনে রাখা আছে, এমন সময় কেয়ামত এসে যাবে, তারা দুইজনে কাপড়ের ব্যাপারে ফায়সালা করতে পারবে না, এমনকি কাপড়কে গুছিয়ে রাখতেও পারবে না।
এক ব্যক্তি উটনির দুধ দোহন করে ঘরে নিয়ে চলছে এমন সময় কেয়ামত এসে যাবে, তা আর ব্যবহার করার সুযোগ তার মিলবে না। এক ব্যক্তি হয়তো পানির আধার তৈরি করছে, এমন সময় কেয়ামত এসে যাবে, সে ঐ আধার থেকে পশুকে পানি পান করাতেও পারবে না। কেউ খাবারের মুঠি মুখে তুলছে এমন সময় কেয়ামত এসে যাবে, ঐ মুঠি তার মুখ পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারবে না, এর মধ্যে কেয়ামত হয়ে যাবে (তারগীব ও তারহীব, সহীহ ইবনে হিব্বান)। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ্ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ চোখে কেয়ামতের দৃশ্য দেখতে চায় সে যেন ১) আত্-তাকভীর, ২) আল ইনফিতার, ৩) আল ইনশিক্বাক সূরাগুলো পড়ে নেয় (তিরমিযী)।
আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি দোযখের কথা স্মরণ করে কাঁদছিলেন। তাঁর কান্না দেখে রসূলুল্লাহ্ (স.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়শা! কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, পরকালের চিন্তাই আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরাচ্ছে। হে রসূল (স.)! কেয়ামতের দিন আপনারা কি আপনাদের স্ত্রীদের কথা স্মরণ করবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই, তবে তিনটি জায়গায় কেউ কাউকে স্মরণ করবে না। (১) মীযানের কাছে, যেখানে মানুষের আমল পরিমাপ করা হবে। তখন প্রত্যেকেই এ চিন্তায় নিমজ্জিত থাকবে যে, তার (নেকীর) পাল্লা ভারি হবে না হালকা হবে। (২) সে সময় যখন আমলনামা হাতে দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমার রেকর্ড পড়ো। তখন সকলেই এই দুশ্চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, নাকি পিছন দিক থেকে বাম হাতে দেয়া হবে। (৩) এবং তখন, যখন জাহান্নামের ওপর রাখা পুলসিরাত পার হতে হবে (আবু দাউদ)। সুতরাং চরিত্র গঠনের ও সওয়াব হাছিলের এই উত্কৃষ্ট মাসে আমরা পার্থিব সকল প্রকার লোভ-মোহ, হিংসা-বিদ্বেষ, পরনিন্দা ও পরশ্রীকাতরতা ঝেড়ে ফেলে পরকালের পাথেয় সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হই। আল্লাহ আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমীন। ই-মেইল: [email protected]
