আমাদের কাছে এমনকি হয়তো তোমাদের অনেকের কাছেই শার্লক হোমস একজন সত্যিকারের মানুষ, বিস্ময়কর বুদ্ধির অধিকারী একজন সফল অপরাধ বিজ্ঞানী। আমরা ভাবতেই পারি না , হোমস একটি কল্পিত চরিত্র। গোয়েন্দা কাহিনীর মধ্যে রয়েছে ফেলুদা, রয়েছে নীহাররঞ্জনের গল্প আরো বেশ কিছু। কিন্তু বহুযুগ ধরেও হোমস একজন শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা। শুধু কি তাই, অনেকেই হোমসকে সত্যিকার জীবন্ত মানুষ বিশ্বাস করে হোমসের জীবন ও কর্ম নিয়ে রীতিমত গবেষণা করেছেন। পাঠকের কাছে হোমস এতটাই জীবন্ত যে তাঁর নামে, ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের ঠিকানায় বহু চিঠি আসত। মজার বিষয় হলো আমরা হোমসকে যতটা চিনি , সেভাবে তাঁর নির্মাতাকে জানি না। গোয়েন্দা শার্লক হোমসের বিপুল জনপ্রিয়তার আড়ালে এর রচয়িতা স্যার আর্থার কোন্যান ডায়ালের নাম চাপা পড়ে গেছে। স্যার আর্থার সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। স্যার আর্থার কোন্যান ডায়াল তাঁর গল্পের প্রধান চরিত্রটিকে একেবারে জীবন্ত করে তোলার জন্য ডাঃ ওয়াটসনের জবানীতে কাহিনী উপস্থাপন করেছেন। আমরা কিন্তু আজ হোমস সম্পর্কেই জানবো।
হোমস তরবারি খেলা, লাঠি আর মুষ্টিযুদ্ধে রীতিমত দক্ষ ছিলেন। ভালো বেহালাবাদকও ছিলেন। তিনি খুব বেশি জানার পক্ষে ছিলেন না। কারণ হোমস মনে করতেন , মানুষের মগজটা একটা খালি কুঠুরি বিশেষ। জ্ঞানীরা সেই কুঠুরি প্রয়োজনীয় আসবাব দিয়ে সাজিয়ে রাখে, আর বোকার দল সেই কুঠুরিকে গুদাম ঘর করে তোলে। তিনি মনে করতেন পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে বা হয়ে গেছে সেসব তথ্য মগজে না রাখলেও ক্ষতি নেই কিন্তু যা হয় নি, ঘটেনি সেসব বিষয় উদঘাটনেই বেশি মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। সহকর্মী এবং ঘনিষ্ট বন্ধু ডাঃ ওয়াটসনকে তাই হোমস গর্বভরে বলেছেন, হোমস রক্তের দাগ পরীক্ষা করার জন্য যে আধুনিক টেস্ট আবিষ্কার করেছেন তার কার্যকারিতার কথা , সেই সাথে রক্তের দাগ পরীক্ষা করার পুরাতন টেস্ট গুয়াইকাম টেস্টের অসারতার কথাও বললেন। কারণ গুয়াইকাম পরীক্ষায় রক্তের দাগটা কয়েক ঘণ্টার বাসি হলে আর মাইক্রোস্কোপ টেস্টে রক্তকণিকা চেনার উপায় থাকে না। হোমস আবিষ্কৃত টেস্টে এই ত্রুটি নেই। তাই হোমস আক্ষেপ করে বলেছেন, ক’দিন আগেও যদি তিনি তাঁর আবিস্কারটা করতে পারতেন তো বহু কুখ্যাত অপরাধী নিরপরাধী বলে সাব্যস্ত হতো না। শার্লক হোমসের গোয়েন্দা কাহিনী বেশ কিছু গল্প এখনও আমাদের আলোড়িত করে। রহস্য উন্মোচনের জন্য সামান্য একটা ক্লু কীভাবে বের করে আনে প্রকৃত অপরাধীকে, গল্পের শেষাবধি থাকে টান টান উত্তেজনা। আমি তোমাদের কল্পবিজ্ঞানী জুলভার্নের কথা বলেছিলাম। আজ অবিসংবাদিত গোয়েন্দা এবং অপরাধ বিজ্ঞানী শার্লকের সঙ্গে পরিচয় করে দিলাম। আশা করি যারা এখনও শার্লক হোমসকে জানো না, তারা সিলেবাসের পড়ার অবসরে হোমসের সাথে পরিচিত হয়ে নিও। হোমসের দুশোরও বেশি গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিফিল্ম হয়েছে। লেখক ডায়ালের ক্রাইম তদন্তে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি কেবল গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এশিয়া , ইউরোপ, আমেরিকা গোয়েন্দা সংস্থায় অনুসৃত হচ্ছে সেই সব পদ্ধতি। চীন ও মিশরে গল্পগুলো গোয়েন্দা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত আছে। সারা বিশ্বের পুলিশী তদন্ত ধারায় গল্পগুলো নিয়ে নতুন মাত্রা। শতবর্ষ অতিক্রম করেও এভাবেই হোমস আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে আছে। গল্পগুলো থেকে কয়েকটির নাম উল্লেখ করলাম— ‘অ্যাডভেঞ্চার অব উইসটেরিয়া লজ’; ‘অ্যাডভেঞ্চার অব ব্রুস পার্টিংটন প্ল্যান’ ;‘অ্যাডভেঞ্চার অব ইলাসট্রিয়াস ক্লায়েন্ট’ ; ‘অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য মাজারিন স্টোন’ ; ‘ দ্য প্রবলেম অব থর ব্রিজ’ ; ‘অ্যাডভেঞ্চার অব দ্য ক্রিপিং ম্যান’ ; ‘ভ্যালি অব ফিয়ার’ ; ‘এ কেস অব আইডেনটিটি’ ; ‘ ক্রুকেড ম্যান’ ;‘ফাইনাল প্রবলেম’ ইত্যাদি।
