আফ্রিদি ফেরায় দলে ‘অস্বস্তি’?

আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৩, ২২:০০
ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের জন্ম দিয়ে ফিরেছেন দলে। ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি এখনো ফুরিয়ে যাননি। অথচ, তার দলে ফেরাটাকে নাকি ভালো চোখে দেখছেন না দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার। দলের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখা ঐ খেলোয়াড়দের মতে, মারকুটে এই অলরাউন্ডার ফেরায় পাকিস্তান দলে এক ‘অস্বস্তিকর’ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে! পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে এই চমকে দেয়া তথ্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের পর থেকেই দলের বাইরে ছিলেন আফ্রিদি। খেলা হয়নি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও। ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিকের ক্যারিয়ারের শেষও দেখে ফেলেছিলেন অনেকেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলমান এই সিরিজের আগেই দল নির্বাচকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, এটাই আফ্রিদির শেষ সুযোগ। তবে সে সুযোগটাকে যে তিনি এভাবে কাজে লাগাবেন সেটা হয়তো ভাবতে পারেননি কেউই। ব্যাট হাতে ৫৫ বলে ৭৬ রান আর বল হাতে ১২ রানে সাত উইকেট; আফ্রিদিকে তাই আবারো নিয়ে এসেছে আলোচনায়। করাচি ভিত্তিক সংবাদপত্রটি বলছে, দলের ঐ সিনিয়র খেলোয়াড়রা একারণেই ভুগছেন অস্বস্তিতে। তাদের শঙ্কা, আফ্রিদির পারফরম্যান্স তাদেরকে দলের বাইরে ঠেলে দিতে পারে। তাছাড়া এই মুহূর্তে যারা দলে আছেন, অভিজ্ঞতা বিবেচনায় আফ্রিদিই তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। সুতরাং, সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়েও তাদের চেয়ে আফ্রিদির মতামতকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খেলোয়াড় বলেন, ‘বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, বিশেষত সিনিয়র খেলোয়াড়রা তার উপস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করছে। আর এর কারণটাও পরিষ্কার। কারণ, তার মতো একজন খেলোয়াড়কে নিয়ন্ত্রণ করা আসলেই কঠিন। তার (আফ্রিদি) উপস্থিতিতে তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শঙ্কিত। তারা বলছেন, আফ্রিদিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন এবং এই বিষয়টি দলের জন্য নেতিবাচক। আর মিডিয়ার সাথে খুব ভালো যোগাযোগ থাকায় আফ্রিদিকে নিয়ে এত আলোচনা বলে তারা মনে করেন।’ দলের সাথে ঘনিষ্ঠ আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আফ্রিদি যখন দলে থাকে না তখন ড্রেসিংরুমে শান্তি বিরাজ করে।’ তবে দলে আফ্রিদির গুণমুগ্ধ ভক্তেরও অভাব নেই। তাদেরই একজন বলেন, ‘সে দলে বিপুল পরিমাণ শক্তির সঞ্চার করে, যা কিনা সাফল্যের জন্য আমাদের আরো তাতিয়ে দেয়। তাছাড়া সে নিজেও দারুণ লড়াকু মানসিকতার এবং এটি তরুণদের খুবই উত্সাহিত করে। তরুণদের জন্য সে অনুপ্রেরণার উত্স। কারণ, সে সবাইকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মরণপণ লড়াই করতে বলে।’ এদিকে যাকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই আফ্রিদি বললেন দলে কোন সমস্যাই দেখছেন না তিনি। নিজের মনোভাবে কোন সমস্যা নেই দাবি করে ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘আমি ড্রেসিংরুমের পরিবেশটাকে যেভাবে উপভোগ করি, আমার মনে হয় না আর কেউ তেমনটা করে। সত্যি বলতে কি, অধিনায়ক হওয়ার পরেও আমি এই চেষ্টাই করেছি। আমার কোন ইগো সমস্যাও নেই। আমি যে কোন সময় যে কোন অধিনায়কের অধীনে খেলতে রাজি। আমি শুধু চাই আমার পারফরম্যান্স দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে।’ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।