ক্যান্সার নিয়ে বার্সেলোনার মতো একটি ক্লাবের মূল কোচের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া মোটেও সহজ কোন কাজ নয়। না, শেষ বেলায় টিটো ভিলানোভা এমন কোন কারণ সামনে নিয়ে আসেননি। বরং তিনি ছিলেন স্বভাবসুলভ বিনয়ী; জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া তার জন্য কোনভাবেই সহজ ছিল না। ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক চিঠির মাধ্যমে ক্লাব, সমর্থক এবং তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ক্যান্সারের চিকিত্সার কারণে তিনি শুক্রবার বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ।
৪৪ বছর বয়সী ভিলানোভার লালা গ্রন্থিতে যে টিউমারটি ধরা পড়েছিল সেটি ২০১১ সালের নভেম্বরে অপসারণ করা হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে আবারো একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে আবারো অস্ত্রোপচারের স্মরণাপন্ন হন তিনি। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ ধরে নিউইয়র্কে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নিয়েছেন ভিলানোভা। গত মার্চে ভিলানোভা বার্সেলোনার শিবিরে ফিরে এসে দলকে লা লিগা শিরোপা জয়ে সহযোগিতা করেন। কিন্তু সবকিছুকে পিছনে ফেলে শুক্রবার তিনি ক্লাবের স্বার্থেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শনিবার বার্সার ওয়েবসাইট তার বিদায়ী পত্রটি প্রকাশ করে। তাতে লেখা ছিল, ‘পেপ গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করাসহ অত্যন্ত চমত্কার পাঁচটি বছর কাটানোর পরে জীবনে এমন একটি মুহূর্তে আমি উপনীত হয়েছি যেখানে আমার পেশাদার জীবনে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। যে দলের সাথে আমি ছিলাম তারা যে স্বপ্ন পূরণ করেছে তা প্রতিটি কোচেরই কাম্য। আড়াই বছর আগে আমার যে অসুস্থতা ধরা পড়েছে সে কারণে আমি আমার পেশাদার জীবন ছেড়ে এখন তার সাথে লড়াই করার জন্য আমার সব শক্তি উত্সর্গ করেছি।এখন থেকে আমি যে ধরনের চিকিত্সা ব্যবস্থা অনুসরণ করব সেটা আমার চিকিত্সক আমাকে সুপারিশ করেনি। মূলত বার্সেলোনার মত একটি দলের হয়ে শতভাগ দিতে না পারাটাই এখানে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু আমি সবসময়ই ক্লাবের সব কাজ-কর্ম পর্যবেক্ষণ করব। এটা আমার ক্লাবের প্রতি অগাধ ভালবাসা থেকেই করতে হবে। বিশেষ কিছু মানুষের সমন্বয়ে এখানে যে দল তৈরী হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে যাওয়া এতটা সহজ কাজ নয়। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, বন্ধু যাদের সাথে আমি এখানে বেশ কিছু অসাধারণ মুহূর্ত কাটিয়েছি তাদের কথা সবসময়ই মনে থাকবে।’
ক্লাবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভিলানোভা এখানকার মেডিকেল স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন যারা তাকে সবসময়ই সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘আমি আমার অসুস্থতার এই পর্যায়ে বেশ শান্ত, শক্ত এবং বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি যে, যা হচ্ছে ভালই হচ্ছে।’ একইসাথে তিনি সবধরনের বিষয় থেকে আপাতত দূরে থেকে তার ব্যক্তিগত জীবনে যাতে নির্জনতা বজায় থাকে সেজন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
একেবারে শেষে তিনি একটি কথা দিয়ে পত্রটি শেষ করেছেন, ‘আমি এই চিঠিটা একটা কথা বলে শেষ করতে চাই। সেটা হলো বিশ্বের সেরা ক্লাবের পরবর্তী নতুন কোচকে আমি স্বাগত জানাতে চাই এবং তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাতে চাই।’
