ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত দিনাজপুরের নারী শ্রমিক

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৪
‘বিশ্বে যাকিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘নারী’ কবিতার পংক্তির এই শাশ্বত কথাটি আমরা মুখে সমর্থন করি বটে কিন্তু অন্তরে তা ধারণ করি কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বিভিন্ন কাজে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা নারীদের প্রতি যে বৈষম্যমূলক আচরণ করি, তাতে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় না। গোটা দেশের ন্যায় দিনাজপুর জেলাতেও নারী শ্রমিকরা তাদের মজুরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। জেলার হঠাত্পাড়া মহল্লার নির্মাণ শ্রমিক ভারতী রানী (৩০), শ্যামলী রায় (২৫), বিলকিস আরা (২৫), জয়ন্তী বালা (৪৫) সাংবাদিকদের বলেন, আমরাও পুরুষের মতই শ্রম দিচ্ছি। অথচ আমাদের দৈনিক মজুরি ১শ’ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, যেখানে পুরুষদের দৈনিক মজুরি ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা। এটা ঠিক নয়। এভাবে বৈষম্য করে আমাদের তথা নারী শ্রমিকদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আরেক শ্রমিক মর্জিনা বেগম বলেন, আমরা কোন অংশেই পুরুষের চেয়ে কম শ্রম দেই না। কিন্তু বাস্তবে যাদের কাজ করছি সেই মালিকগণ (নির্মাণ) শ্রমের মূল্য পরিশোধের সময় টাকা দিচ্ছেন পুরুষের তুলনায় অনেক কম যা অমানবিক। প্রায় একই ধরনের কথা শোনা গেছে জেলার কোতয়ালী থানার মাঝাডাঙ্গা, বাঙ্গিবেচাঘাট, পাটুয়াপাড়া, লালবাগ, রামনগর, রাজবাড়ী, গুঞ্জাবাড়ী এলাকার নারী শ্রমিকদের কাছ থেকে। তবে ঠিকাদারদের অভিযোগ, নারী শ্রমিকরা কাজ করলেও পুরুষের তুলনায় সময় দেন কম। এছাড়াও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বাড়ি গিয়ে সময় অপচয় করেন। যার কারণে পুরুষের সমান টাকা পান না। দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভানেত্রী মনে করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের পিছিয়ে রাখার যে চেষ্টা করা হচ্ছে তার প্রমাণ তাদের নিম্ন মজুরি নির্ধারণ। তারা প্রশ্ন রাখেন, কেন নারীরা মজুরি কম পাবেন? নারী-পুরুষ উভয়ে মিলে যখন আমরা দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি সে মুহূর্তে নারী শ্রমিকদের প্রতি এমন বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না। নারী শ্রমিকদেরও সমান মজুরি দেয়ার আহবান জানান তারা। এজন্য প্রয়োজনে আন্দোলনও করা হবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, নারী পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। নারী শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার হতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।