আসিফুর রহমান সাগর
নিউমার্কেটের ভেতরের পুরো চত্বর রেস্টুরেন্টগুলোর ইফতার টেবিল বিছানো। কিন্তু একটি টেবিলও খালি নেই। তবুও মানুষের কমতি নেই। আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি কিন্তু বসবার একটি জায়গাও খালি নেই। দুই বাচ্চা নিয়ে একটি পরিবার বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়েছে। কোথায় ইফতার করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। এই সময় ইউনাইটেড বেডিং স্টোরের মালিক ও কর্মচারীরা এসে বললেন, কিছু যদি মনে না করেন আমাদের সঙ্গে বসে ইফতার করতে পারেন। একটু ইতস্তত করে সেখানেই ইফতার করলেন তারা। রমজান যেমন সিয়াম সাধনার মাস, সংযমের মাস; অপরদিকে এই রমজান মানুষে মানুষে মিলিত হওয়ারও এক উপলক্ষ নিয়ে হাজির হয়। মানুষে মানুষে বন্ধনের যে কথা ইসলাম বলে তার উজ্জ্বল উদাহরণ রচিত হয় রমজানে।
বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান বললেন, ইফতারে ধনী-দরিদ্র কোনো ভেদাভেদ করতে হয় না। যারাই আসবেন তাদেরই ইফতারে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। ইফতারকে উপলক্ষ করে এত মানুষের সম্মিলন ঘটে এটা খুব উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। ইফতারে বসলেই মন পবিত্র হয়ে যায়। ইফতারের সময় হয় আজানের সুর ভেসে আসে মসজিদ থেকে। তখন প্রতিটি বাড়িতে, বাসে, গাড়িতে; অফিসে-মার্কেটে, দোকানের সামনে সবাই এক হয়ে ইফতারে মিলিত হয়। মানুষে মানুষে হয় এক মহামিলন মেলা। শুধু তো তাই নয় ইফতার মাহফিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষে মানুষে বন্ধন সৃষ্টি করে। মিলবার উপলক্ষ হয়ে হাজির হয়। সারা দিন রোজার পর রোজাদারদের তৃপ্তিভরা মুখ এক অনাবিল শান্তি ছড়িয়ে দেয়।
ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক হয়ে বসে যেভাবে ইফতার করেন— এটা সত্যিই এক অভূতপূর্ব ঘটনা। তাই রমজান শুধু সংযমের শিক্ষাই দেয় না এটা সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও তৈরি করে। মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান করতে শেখায়। এখন ইফতার আয়োজন সামাজিক আচারে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অফিসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মালিকের তরফ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হয়। যে ধর্মের মানুষই হোন না কেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তিনি ইফতারের ব্যবস্থা করেন। ফলে ইফতার শুধু ধর্মীয় নিয়ম পালনের গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই।
প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এই রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করছে। মসজিদে মসজিদে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, ব্যক্তি পর্যায় থেকে গরিব-দুস্থদের জন্য ইফতারের আয়োজন বসে। রাজনৈতিক নেতারা এই রমজানে নিজেদের এলাকায় ছুটে যান এলাকার মানুষের সঙ্গে কয়েকটি বেলা ইফতারে মিলিত হওয়ার জন্য। রমজান মাস এমনি এক ভিন্ন আবেদন নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়।
অফিসে, বিপণি বিতানে ইফতারের আঙ্গিক ভিন্ন আবার মসজিদগুলোতেও ইফতারের আবেদন ভিন্ন। সেখানেও গরিব-দুঃখীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন অনেকে। তবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রায় তিন হাজার মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করেন এ মসজিদে।
