টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরের চারটি ইউনিয়নে দুই বছরে শত শত পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তাদের বাড়ি-ঘর সহায়-সম্পত্তি সব হারিয়ে এখন যাযাবর জীবন-যাপন করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ভাঙ্গনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে এলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোন লক্ষণ নেই।
অসহায় এ মানুষগুলো ভাঙন রোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীতে বাঁশ ও ছোন দিয়ে বাঁধ দিয়েছে ঘর-বাড়ি রক্ষার্থে। তাতেও কোন ফল হচ্ছে না। নদীর গতিবেগ প্রবল হওয়ায় কোন কিছুতেই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। অব্যাহতভাবে ভাঙনের ফলে নতুন করে দুইটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, দুইটি হাইস্কুল, পাঁচটি প্রাইমারি, দুইটি মাদ্রাসা, পাঁচটি কিন্ডারগার্টেন ১০টি পোল্ট্রির খামার, পাঁচটি মসজিদ, চারটি মন্দির ও দুইটি বাজারসহ ৯-১০ গ্রামের হাজার হাজার পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অদ্যাবধি কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি।
গোবিন্দাসী ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান শিকদার বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও জনগণের জন্য কিছুই করতে পারছি না। নতুন করে ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া, চরচিতুলিয়া, কোনাবাড়ী গ্রামের শত শত পরিবার ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হেলালুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ভাঙন রোধে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি সহায়তা পাবো।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, ভূঞাপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জন্য নতুন করে ২৫ কোটি টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছে। সচিবের নেতৃত্বে টেকনিক্যাল কমিটির মিটিং না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।
