ঝড়ো আবহাওয়া, ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতি এবং পরবর্তীতে বজ্রপাত এসবই গতকাল পাকিস্তানের সহায়ক ছিল। সাথে দুই ব্যাটসম্যান মিসবাহ উল হক আর মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাটিং তো ছিলই। আর তাই সব মিলিয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে পরাজিত করে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারী পাকিস্তান।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচ দেরীতে শুরু হওয়ায় উভয় দলের জন্য ম্যাচের শুরুতেই ৪৯ ওভার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। প্রথমে ব্যাটিং থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিবর্তিত ব্যাটিং লাইন আপের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মারলন স্যামুয়েলস অপরাজিত ১০৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন। তার ব্যাটিংয়ে ভর করে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে ২৬১ রানের লড়াকু ইনিংস গড়ে তুলে। ১৭ ওভারে ২ উইকেটে পাকিস্তানের ইনিংস যখন ৬৮ রানে পৌঁছায় তখন দ্বিতীয়বার বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বন্ধ হয়ে গেলে জয়ের জন্য তাদের সামনে নতুন লক্ষ্য দেয়া হয় ৩১ ওভারে ১৮৯ রান। মাত্র ১৪ ওভারে জয়ের জন্য ১২১ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজ এবং অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের অর্ধ শতকে ভর করে এক ওভার বাকি থাকতে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।
এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করা মিসবাহ ম্যাচ শেষে বলেছেন, আমরা যখন পুনরায় খেলতে নামি তখন এটা অনেকটা টি ২০ ম্যাচে পরিণত হয়েছিল। হাফিজ এবং আমি একটি বিষয়ে অটল ছিলাম যে আমরা আমাদের স্বাভাবিক ক্রিকেটিং শট খেলব এবং বাজে বলের জন্য অপেক্ষা করব। শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রার দিকে গুরুত্ব দেয়াই এখানে মুখ্য ছিল।
দুইদিন আগে এই মাঠেই নাটকীয় ম্যাচে টাই করে ম্যাচ হাতছাড়া করা পাকিস্তান এখন ২-১ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থেকে বুধবার একই ভেন্যুতে পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত করার আগে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলো।
পরিবর্তিত জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তানকে যতটা স্বস্তিতে দেখা যাচ্ছিল তার ঠিক বিপরিত চিত্র ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। অনেকটা বিষন্ন মনে ক্যারিবীয়রা পুনরায় মাঠে নামে। সেই সুযোগে পাঁচ ওভারের মধ্যেই মিসবাহ এবং হাফিজ মিলে ৫৪ রান যোগ করলেও ক্যারিবীয় অধিনায়ক ডুয়াইন ব্র্যাভো ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করতে থাকেন। কেমার রোচের বলে ডুয়াইন ব্র্যাভোর হাতে ধরা পড়ার আগে হাফিজ পাঁচটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় ৬২ বলে ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৯ রান সংগ্রহ করেন। হাফিজের আউটের পরে ব্র্যাভো নিজে শহীদ আফ্রিদির উইকেট তুলে নিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে।
কিন্তু উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান উমর আকমল মিসবাহকে সঙ্গী করে দলকে জয়ের স্বাদ এনে দেন। আকমল ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যপ্রান্তে ৪৩ বলে ৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় মিসবাহর করা ৫৩ রানের ইনিংসটি ছিল তার স্বভাবসুলভ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের কিছুটা বাইরে। ম্যাচ শেষে হতাশ ব্র্যাভো বলেছেন, নতুন ভাবে ম্যাচ শুরু করার জন্য আমরা যখন মাঠে ফিরে আসি তখন আমাদের মূল দুই বোলার রোচ ও সুনীল নারিন পাঁচ ওভার করে বোলিং শেষ করে ফেলেছিলেন। তার তাই গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে আমরা মূলত তাদের কাছ থেকে আর কিছু পাইনি।
এর আগে ১০৪ বলে চারটি ওভার বাউন্ডারি ও ৯টি বাউন্ডারির সহায়তায় স্যামুয়েলসের করা ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি ছিল দুর্দান্ত। এই ইনিংস তাকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার এনে দিয়েছে। পঞ্চম উইকেটে স্যামুয়েলস লেন্ডল সিমন্সকে নিয়ে ৯৫ রানের বিশাল জুটি গড়ে তুলেন। সিমন্স ৪৪ বলে স্যামুয়েলসকে যোগ্য সহায়তা দিয়ে ৪৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
ম্যাচ শেষে দারুণ ব্যাটিংয়ের পরেও দলের জয় দেখতে না পাওয়ার পর স্যামুয়েলস ছিলেন স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। পরাজয়ের কারণ হিসেবে বৃষ্টিকেই সামনে নিয়ে আসলেন এই ক্রিকেটার, ‘যদি বৃষ্টি না আসতো তাহলে ম্যাচে আমরাই চালকের আসনে থাকতাম। আমরা প্রচুর রান করেছিলাম। আর পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা ঠিক ধারাবাহিক না। আমাদের দলে ভাল মানের কিছু বোলার আছে। আমরা তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করলে সব মিলিয়ে আমরাই এগিয়ে থাকতাম।’ - বাসস/এএফপি
