অর্পিত সম্পত্তি আবেদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৩, ২৩:০০
আবেদনের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, অর্পিত সম্পত্তির জন্য আবেদন করার শেষ সময় ছিল গত ৩০ জুন। যারা আবেদন করতে পারেননি তাদের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়াতে আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। বর্তমানে সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংশোধিত আইনটি রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে বলে তিনি জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দুটি ‘ক্যাটাগরিতে’ অর্পিত সম্পত্তির তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি সরকারের দখলে রয়েছে বা ইজারা দেয়া হয়েছে। আর ‘খ’ তালিকার সম্পত্তি সরকারের দখলে বা ইজারায় নেই। এর মধ্যে ‘ক’ তালিকাভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে মামলা নিষ্পত্তিতে ৬১টি জেলায় একটি করে ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আদালত (ট্রাইব্যুনাল) এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল করার প্রস্তাব গত এপ্রিলে অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মূল ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করতো জেলা জজ আদালত, আর আপিল করতে হতো সুপ্রিম কোর্টে। আইনের এই ধারাটি সংশোধন করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজ ও সেশন জজদেরও আদালত পরিচালনার ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে। আর আপিল নিষ্পত্তি করবে জেলা দায়রা জজ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর ফলে আদালতের সংখ্যা বাড়বে এবং মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে। সরকারি হিসাবে দেশে অর্পিত সম্পত্তির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার একর। এদিকে খেতাবপ্রাপ্ত বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব সম্বলিত ‘খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদান নীতিমালা-২০১৩’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালায় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঞা সাংবাদিকদের বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার মাসিক সম্মানী ভাতা হিসেবে ১২ হাজার, বীর উত্তম ১০ হাজার, বীর বিক্রম আট হাজার ও বীর প্রতীক ছয় হাজার টাকা করে পাবে। এর ফলে খেতাবপ্রাপ্ত ২১৭ জন বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের পরিবার এখন থেকে খেতাবধারী সামরিক ও অন্যান্য বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমান হারে ভাতা পাবেন। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের এ ভাতা দেয়ার জন্য বই ইস্যু করা হবে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে এ টাকা দেয়া হবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে বা মেয়ে বা ভাই ও বোনেরা এই ভাতা তুলতে পারবেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৬৭৬ জনকে খেতাব দেয়া হয়। বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার মাসিক ২০০ টাকা, বীর উত্তম ১৫০ টাকা, বীর বিক্রম ১২৫ টাকা এবং বীর প্রতীক ১০০ টাকা হারে সম্মানী ভাতা পাচ্ছিলেন। ২০১১ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিভিন্ন বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়। কিন্তু বেসামরিক খেতাবপ্রাপ্ত ২১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা আগের হারেই সম্মানী পাচ্ছিলেন।