বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা চুক্তি (টিকফা) শিগগিরই সই হতে পারে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, দুই এক সপ্তাহের মধ্যেই এ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকার বিষয়েও তিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টিকফা, সন্ত্রাস দমন ও প্রযুক্তি নিয়ে চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সফল ইতিহাস অনেক, ফলে এর ভবিষ্যত নিয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ব্যাংকটিতে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে এমনটাই প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রদূত বলেন, সমপ্রতি মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) হয়েছে, এতে যোগ দিতে পররাষ্ট্র সচিব মিয়ানমার গিয়েছিলেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে তার (পররাষ্ট্র সচিব) সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছি। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকুক, সেটা প্রত্যাশা করে যুক্তরাষ্ট্র।
সাক্ষাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এটা নিয়মিত বৈঠকেরই অংশ। জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সে বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলাপ হয়েছে। টিকফা স্বাক্ষরের বিষয়টি চূড়ান্ত। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। দ্রুত এটি স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া মিয়ানমারে ফরেন অফিস কনসালটেশন এর বিষয়েও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আলাপ হয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন রাষ্ট্রদুত মজীনা। সাক্ষাত্কালে তিনি বলেন, রানা প্লাজার মতো ঘটনা রোধ করতে পারলে গার্মেন্টস খাতে বাংলাদেশ প্রথম স্থানে আসতে পারবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে আনা ও ইইউ-এর জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার জন্যে ইতিমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
