স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

মানুষের সেবায় ওরা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৭
মানুষের সেবার জন্যই আমরা কাজ করি। এ কাজে আনন্দ পায় এবং অনেক কিছুই শিখতে পারি। আমরা যদি একটু চেষ্টার মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলোর কিছু করতে পারে, তাহলে নিজেদের ধন্য মেনে হয়। এটাই তো চিকিত্সার পেশার ধর্ম  একজন মহিলা কাঁদছে আর হাসপাতালে প্রতিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছুটোছুটি করছে। যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই অনুনয় করছে এক ব্যাগ রক্তের জন্য। রক্ত পেলে সন্তান বাঁচবে। বাঁচবে একটি স্বপ্ন। বাঁচবে তার একমাত্র ভবিষ্যতের অবলম্বন। বলছিলাম একজন অসহায় মা তাহমিনা রহমানের আকুতির কথা। আর তার সন্তান তাহমিদকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ক’জন শিক্ষার্থী ও সন্ধানীর সদস্য, যাদের কাছে সেবাই ধর্ম। যেখানে মানবিকতার বিপর্যয়, সেখানে তারা ছুটে যায়। তারা যে কোনো প্রয়োজনের সহায়তার জন্য প্রস্তুত। যারা পড়ছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন বর্ষে। মানুষের জন্য স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছে ‘সন্ধানী’ সংগঠনের মাধ্যমে। তাদের কার্যক্রম শুধু মিটফোর্ড ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক নয়, মানবতার প্রয়োজনে তারা নানা পথে-প্রান্তরে ছুটে চলে একসাথে। সফলতার সাথে আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর ও ডি.আই.ডি.এফ, এয়ারটেল বাংলাদেশ, লায়নক্লাব, অব ঢাকা, অনন্ত, এসোসিয়েটশন অব ওল্ড ক্যাডেট, ঢাকেশ্বরী মন্দরীসহ নানা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে রক্ত দান কর্মসূচিসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এ সকল নিয়মিত কার্যক্রম ছাড়াও ‘সন্ধানী’ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকান্ড, জনজীবনের মানবিক বিপর্যযের সময় তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা যায়, সামপ্রতিক কালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ‘সাভার ট্র্যাজেডি রানা প্লাজা’র হতাহতের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থাসহ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানসহ উদ্ধার কাজে সহায়তা করা। মাবনতার তাগিদের ওরা ক’জন অসুস্থ রোগীদের জন্য বিনামূল্যে রক্ত সরবরাহ, খাবার, ওষুধ, হুইল চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসামগ্রী প্রদান করে থাকে। প্রতিমাসে থ্যালাসেমিয়া প্রকল্পের আওতায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিয়মিত সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া হেপাটাইটিস বি, টাইফয়েড, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, টিটোনাস, এম.এম.আর প্রভৃতি ক্ষেত্রে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অগ্রগামী। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের আলী আজগর শিবলী বলেন, ‘মানুষের সেবার জন্যই আমরা কাজ করি। এ কাজে আনন্দ পায় এবং অনেক কিছুই শিখতে পারি। আমরা যদি একটু চেষ্টার মাধ্যমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষগুলোর কিছু করতে পারে, তাহলে নিজেদের ধন্য মেনে হয়। এটাই তো চিকিত্সার পেশার ধর্ম। ’ সন্ধানী বাংলাদেশের সভাপতি আকিব জাহান বলেন, ‘রক্ত আমাদের অনেক প্রয়োজন। রক্তের অভাবে অনেক মানুষ মারা যায়। তাই নিজের কিংবা স্বজনের প্রয়োজনে সন্ধানীর কার্যক্রমের সাথে সামিল হওয়া উচিত।