প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের [গ ইউনিট] ভর্তি পরীক্ষা সচরাচর নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সে হিসাবে তোমাদের হাতে আর মাত্র মাস চারেক সময় বাকি আছে। ঢাবির প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। সেজন্য পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে তোমাদের নিতে হবে কঠোর প্রস্তুতি। গ ইউনিটের প্রায় ১ হাজার ১০০ আসনের বিপরীতে সাধারণত ৩৫-৪০ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। তাই এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় নিজের নামটি রাখতে চাইলে শুধু মেধাবী হলেই চলবে না। পরীক্ষায় তারাই ভালো করে যারা উপযুক্ত কৌশল অবলম্বন করে পড়াশোনা করে ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অনেক সময় দেখা যায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার পরেও পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত এক ঘণ্টা সময়ের যথার্থ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক ভালো ছাত্রও ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তোমাদের ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে সহায়ক কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করব। সে সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার দু-তিন দিন আগে কী পড়াশোনা করবে তা নিয়েও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করব।
ইংরেজি : ইংরেজি গ্রামারের প্রশ্নের জন্য Cliffs Toefl, বা Barron’s Toefl বা Lecture Sheet উদাহরণ ও অনুশীলনীসহ ভালো করে পড়বে। Synonym, Antonym, Analogy, Appropriate Prepositions এর পাশাপাশি এ বছর সঠিক বানানগুলোও একটু ভালো করে দেখে নেবে। যদিও আগের বছরগুলোড় বানানের ওপর খুব একটা প্রশ্ন আসেনি।Vocabulary পড়ার ক্ষেত্রে শব্দার্থ মনে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি শব্দের Synonym বা Antonym দেখে নিবে। Analogy পড়ার ক্ষেত্রে শব্দগুলো মুখস্থসহ এদের দুই জোড়ার মধ্যে মিলটাও ভালো করে দেখে নিবে। ভালো কোনো বই থেকে Appropriate Prepositions দেখে নেবে ও মুখস্থ করার কিছু কৌশল প্রয়োগ করবে। Passage অংশে ভালো করার জন্য সামপ্রতিক অর্থনীতি নিয়ে লেখা ইংরেজি পত্রিকার কয়েকটি প্রবন্ধ পড়বে। তাতে অর্থনীতিবিষয়ক শব্দগুলোর অর্থ তোমাদের নখদর্পণে চলে আসবে।
বাংলা : বাংলা অংশে ভালো করতে হলে এই সময়ের মধ্যে বাগধারা, বিপরীতার্থক শব্দ, সমার্থক শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, উপসর্গ, শব্দ, বচন ও সাহিত্য অংশের শব্দার্থগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে।
ম্যানেজমেন্ট : ম্যানেজমেন্টের মূল অংশগুলো ভালো করে পড়বে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্নে দেখা যায়, সামপ্রতিক দেশীয় বা বৈদেশিক ব্যবসায় প্রবাহ থেকে কিছু প্রশ্ন আসে। সেগুলোও মনোযোগ দিয়ে পড়বে।
অ্যাকাউন্টিং : বিগত ১৫ বছরের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নিবে। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্টিংয়ের মূল বিষয়গুলো খুঁটিনাটিসহ অবশ্যই ভালোভাবে পড়াশোনা করবে। বিগত বছরের প্রশ্ন ঘেঁটে দেখা যায়, সঠিক অঙ্কবিষয়ক প্রশ্ন হয় ৪-৫টা, অঙ্ক সম্পর্কিত প্রশ্ন হয় আরও ৪-৫টা। আর বাকিগুলো ব্যবহারিকভিত্তিক প্রশ্ন। তাই তত্ত্বীয় প্রশ্নগুলোর ওপর বেশি জোর দিতে হবে।
বাংলা, ইংরেজিসহ অন্যান্য অংশের মধ্যে যে অংশে নিজেদের ভালো দক্ষতা রয়েছে তা দিয়েই উত্তরদান শুরু করতে হবে। তবে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীদেরই বাংলা অথবা ম্যানেজমেন্ট দিয়ে শুরু করতে দেখা যায়। যেহেতু ইংরেজিতে ১২ নম্বর না পেলে অকৃতকার্য বলে গণ্য করা হয় তাই দ্বিতীয় ধাপে ইংরেজি অংশের উত্তর করা উচিত। প্রতিটি উত্তর আত্ববিশ্বাসের সঙ্গে দাগাবে। একটি ব্যাপার খুবই গুরুত্বসহকারে লক্ষ রাখবে, কোনোভাবেই যেন এমন না হয় যে, বাংলা বা ইংরেজি অংশে হিসাববিজ্ঞান বা ম্যানেজমেন্টের বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছ। এ জন্য প্রথমে একনজরে বাংলা, ইংরেজি, অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট ও ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের অংশ এবং এদের সিকোয়েন্সটা ভালোভাবে দেখে নেবে। শেষের দিকে হিসাববিজ্ঞানের উত্তর করা যেতে পারে কারণ এই অংশে কিছু অঙ্ক থাকে। হিসাববিজ্ঞান অংশে প্রথম ধাপেই থিওরিটিক্যাল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবে। পরে অঙ্ক অংশটা সমাধান করবে। আর সময়ের বণ্টন হতে পারে এ রকমথ বাংলায় ১০ মিনিট, ম্যানেজমেন্টে ১২ মিনিট, ইংরেজিতে ২০ মিনিট এবং বাকি সময় হিসাববিজ্ঞানের জন্য।
