যারা মনে করে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা আহাম্মক

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২২:৪৮

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বৈরতন্ত্র অনেকবার চেষ্টা করেছে এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে। কিন্তু কেউ স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করতে পারেনি। আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিতে পারি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি-বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। যারা মনে করেন অস্ত্র দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। সাংবাদিক-কলামিস্ট মরহুম মাহফুজ উল্লাহ স্মরণে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন। শোকসভায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ১৪ দলের নেতারা একমঞ্চে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।

ড. কামাল বলেন, এখন আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের আলামতগুলো চারদিকে লেগে থাকে। তবে  নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। উচিত কথা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলি। তিনি বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি তখন থেকে তাকে (মাহফুজ উল্লাহকে) চিনি। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে সব মহলের      লোক এখানে একত্রিত হয়েছেন। উনাকে সম্মান জানাচ্ছেন কেন, কারণ তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যখন উচিত কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তখন তিনি উচিত কথা বলেছিলেন।’

শোকসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বরেণ্য সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর রাজনীতি-সচেতন ভূমিকা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে যথেষ্ট অবদান রেখেছে। তিনি সত্যকে সত্য বলতেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি রাজনীতি সচেতন ছিলেন। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিক হিসেবে অবদান রেখেছেন।

মাহফুজ উল্লাহকে নিয়ে বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল কেঁদে ফেলেন। এসময় অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রবিহীন, অধিকারবিহীন রাষ্ট্রে এক কঠিন সময়ে মাহফুজ উল্লাহ সত্য কথা বলার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে জাগিয়ে তুলেছেন। মুক্তবুদ্ধির, যুক্তিবাদী একজন রাজনীতিক মাহফুজ উল্লাহ। যে সমাজে কথা বলা দুঃসহ, সেখানে তিনি কথা বলেছেন, লিখে গেছেন। হুমকির মুখেও তিনি লিখে গেছেন।

সভায় ১৪ দল নেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মাহফুজ উল্লাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সাংবাদিক হিসেবে পরিবেশ সাংবাদিকতায় তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন। মেননের বক্তব্যের সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, আমি রাশেদ খান মেননের বক্তব্য শুনবো না, তার বক্তব্য না শুনেই আমি বের হয়ে যাচ্ছি।’ তবে কী কারণে তিনি বয়কট করলেন সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

শোকসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব বলেন, দেশে শিশু ধর্ষিত হচ্ছে প্রতিদিন, কিন্তু বিচার হচ্ছে না। সাংবাদিক মরে যাচ্ছে, তারও বিচার হচ্ছে না। পুলিশকে কিছু করা যায় না। কারণ পুলিশকে দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে। পুলিশ চাঁদাবাজি করছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের সভাপতিত্বে শোকসভায় আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, সাবেক কূটনীতিক শমসের মুবিন চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. আসিফ নজরুল, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সা’দাত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা নূহ উল আলম লেনিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহম্মদ জমির, টিআইবি’ নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।