অব্যাহত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজশাহী মহানগরীর প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ। অথচ মশক নির্মূলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) কোন উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। তবে রাসিকের মশক বিভাগের প্রধান বলেন, অবিলম্বে মশক নিধন অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি অভিযানের দিন ও তারিখ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
রাসিক নির্বাচনী ডামাডোলের পর নগরীতে মশক নিধনের কোন কর্মসূচি নেয়া হয়নি। ফলে নগরীতে ব্যাপকভাবে মশার বংশ বিস্তার ঘটেছে। বর্ষা মৌসুমেও নগরীতে মশক নিধনের কর্মসূচি না নেয়ায় রাসিক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন নগরবাসী। তারা বলেন, এখন বর্ষাকাল। আনাচে-কানাচে জমে থাকা পানি, ঝোপ-ঝাড় ঠিকমত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জন্ম নেয়া মশার দল বিভিন্ন বাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত আক্রমণ চালিয়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছে সকল শ্রেণির মানুষকে। রান্নাঘর, বাথ রুমে, গোছলখানায় কোন স্থানে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারছে না। এমনকি বিছানায় মশারি না টাঙ্গিয়ে কেউ স্বস্তিতে শুয়ে বা বসেও থাকতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোজাদার ও শিক্ষার্থীরা। ইফতার, সেহেরী ও তারাবীর নামাজের সময় রোজাদাররা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন। শিক্ষার্থীরা মশার দংশনে ক্লাস ও পরীক্ষার পড়া প্রস্তুত করতে পারছে না।
গত ১৫ জুন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বে ১৩ জুন পর্যন্ত মাসব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওষুধ ছিটানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার মশার আক্রমণ শুরু হয়। অনেকেই ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি মশক নিধন অভিযান পরিচালনার জন্য আহবান জানাচ্ছে মহানগরবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন নগরীর বিভিন্ন পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। নগরীর বিভিন্ন এলাকার এমনকি মধ্য নগরীর বিভিন্ন পুকুর ভর্তি কচুরিপানা মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চলে নিত্য নতুন বাড়ি-ঘর গড়ে উঠায় তার আশপাশের কিছু কিছু জলাবদ্ধ ভূমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মশার ও বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড় জন্ম নিচ্ছে।
নগরীর সাগরপাড়ার এক বাসিন্দা জানান, সেখানকার সাবেক রানীপুকুরের উত্তর পাশের প্রায় দেড় বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ভর্তি কচুরিপানায় জন্ম নেয়া লক্ষ লক্ষ মশা এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। কিন্তু ঐ পুকুরের কচুরিপানা অপসারণে মালিকপক্ষ এমনকি রাসিকও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পুকুরের কচুরিপানা অপসারণ, ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে মশার অত্যাচার আরো বাড়বে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
