হারুন লরগাতের সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সমস্যার শুরু তিনি আইসিসির প্রধান নির্বাহী থাকা অবস্থায়। সেই সমস্যার জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী পদে লরগাতকে দেখতে চাচ্ছিল না বিসিসিআই। তাদের আপত্তির মুখেও নিয়োগ পাওয়ার পর লরগাত বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি যে কোনো কিছু করতে রাজি আছেন; এমনকি আগের কোনো কাজের জন্য ক্ষমা চাওয়া দরকার হলে তাও করবেন লরগাত!
ইস্টার্ন প্রভিন্স ও ট্রান্সভালের হয়ে ৭৬টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা হারুন লরগাত ২০০১ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন নির্বাচক কমিটির প্রধান। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে ছিলেন লগাত। আর এই সময়ই আম্পায়ারদের ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ইউডিআরএস) এবং ভবিষ্যত সফরসূচি (এফটিপি) নিয়ে ভারতের সঙ্গে ব্যাপক মনোমালিন্য হয় লরগাতের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভারতের একাধিপত্যের বিরোধিতা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন আইসিসির এই সাবেক প্রধান নির্বাহী।
২০১২ সালের শেষ দিকে জেরার্ড মাজোলাকে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির পর প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লরগাতকে সেই পদে নিয়োগ দিতে চাচ্ছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। কিন্তু ভারতীয় কর্মকর্তারা এ সময় ব্যাপক বিরোধিতা করেন এই নিয়োগের। এমনকি লরগাত নিয়োগ পেলে ভারত এ বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নাও করতে পারে, এমন হুমকিও দেয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে ভারত সফর করেন সিএসএ প্রেসিডেন্ট ক্রিস নেনজানি। তিনি সফরশেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারতকে সন্তুষ্ট করা গেছে, ‘হারুনকে নিয়ে তারা যে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন, সে ব্যাপারেই আমরা বিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমরা তাদের বলেছি যে, আমরা তাদের দুশ্চিন্তাকে ছোট করে দেখছি না। কিন্তু আমরা সিএসএ’র স্বার্থেই কাজ করবো; অন্য কারো স্বার্থে নয়।’
নিয়োগ পাওয়ার আগে হারুন লরগাত নিজেও এ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানে নিজের দুঃখ ও বিস্ময় প্রকাশ করে কড়া ভাষায় কথা বলেছিলেন। কিন্তু শনিবার তার নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার পর খাটি কূটনীতিবিদের মতো ভাষা বদলে ফেললেন লরগাত। বললেন, বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে তিনি যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত, ‘যদি আলোচনায় বসতে হয়, ভারতে যেতে হয়; সম্পর্ক ভালো করতে যা যা করতে হয়, আমাকে করতে হবে। আমার কাছে সিএসএ’র স্বার্থই এখন প্রথম ব্যাপার। সে জন্য যদি কেউ আমার কোনো আচরণে এর আগে আহত হয়ে থাকেন, তার কাছে যদি ক্ষমা চাইতে হয়, তাও করবো।’
হারুন লরগাতের এই নমনীয় অবস্থান কাউকে বিস্মিত করতে পারে। তবে বৈশ্বিক কারণেই তিনি আসলে এই অবস্থান নিয়েছেন, সেটা কৌশলের কথাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘দেখুন, ভারতের যে অবস্থান, তাকে আমার শ্রদ্ধা করতেই হবে। আমার ওপরই নির্ভর করে, আমি কেমনভাবে এটা সামলাবো। হ্যা, কোনো শক্তিধরের অতিরিক্ত ক্ষমতার চর্চা ভালো না। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সত্যিকারের শক্তিশালী কারো সঙ্গে শত্রুতা করাও ঠিক না। বরং যে যতোটুকু শক্তিশালী, তাকে ততোটা গুরুত্ব তো দিতেই হবে।’
