ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর জন্ম

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৬
প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী ডাচেস অফ কেমব্রিজ কেট মিডলটন গত সোমবার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। রাজপরিবারের এই নবজাতক প্রিন্স অফ কেমব্রিজ হিসেবে পরিচিতি পাবেন এবং ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে তার অবস্থান হবে তৃতীয়। কেনসিংটন প্রাসাদ জানিয়েছে, মা, বাবা এবং শিশু সবাই সুস্থ আছেন। কেটের মা-বাবা গতকাল মঙ্গলবার নবজাতককে দেখতে হাসপাতালে যান। খবর বিবিসি ও এএফপির। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেটের হাসপাতাল ছাড়ার কথা। না ছাড়লে আজ বুধবার তারা হাসপাতাল ত্যাগ করবেন। প্রিন্স উইলিয়াম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি এবং তার স্ত্রী খুবই খুশি। তিনি এবং কেট যথার্থ সেবা দেয়ার জন্য হাসপাতালের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং ডিউক অফ এডিনবরা ফিলিপও খুবই আনন্দিত। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানরা নবজাতকের মা-বাবাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজপ্রাসাদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ সময় সোমবার বিকাল ৪টা ২৪ মিনিটে শিশুটি জন্মগ্রহণ করে। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল সাড়ে তিন কেজি। অস্ত্রোপচার ছাড়াই তার স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। মা এবং শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন। ঐতিহ্য অনুযায়ী নবজাতকের জন্মের এই সংবাদটি বাকিংহাম প্যালেসের সামনে টানিয়ে দেয়া হয়। ব্রিটিশ রাজপরিবারের নতুন অতিথির নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সন্তান জন্ম দেন কেট। জন্মের ৪ ঘণ্টা পর খবর জানানো হয়। রাজপরিবারের নতুন সদস্যের জন্মের সংবাদটি ঘোষণার সময় হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমাণ মানুষেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। বাকিংহাম প্যালেসের সামনেও প্রচুর মানুষ ভিড় করে। সারা দেশে আনন্দের বন্যা শুরু হয়। লন্ডনে বসবাসরত এক জাপানি নাগরিক ইতসুকি কুরোদা বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী এই শিশুর জন্ম উত্সব উদযাপন করতে চাই। এই শিশু একদিন এ দেশের রাজা হবে, এটা ঐতিহাসিক ঘটনা। লন্ডনের বাসিন্দা সিলভি বিভার বলেন, আমরা খুব খুশি ও আনন্দিত। খুব ভাল লাগছে। তিনি বলেন, ছেলে হয়েছে। তবে আমরা কন্যা প্রত্যাশা করেছিলাম। কেনসিংটন প্যালেস থেকে দেয়া একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, পুত্রশিশুর জন্মের সময় প্রিন্স উইলিয়াম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই নিয়মানুযায়ী নবজাতকের নাম জানানো হবে। প্রিন্স উইলিয়ামের বাবা প্রিন্স চার্লস বলেছেন, প্রথমবারের মতো দাদা হতে পেরে তিনি খুবই গর্বিত এবং আনন্দিত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, এটি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বিশ্ব নেতারা ব্রিটেনের রাজশিশুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামা ডিউক এবং ডাচেস অফ কেমব্রিজকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজপরিবারকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের বড় পর্দায় রাজপরিবারের নতুন সদস্যের জন্মের সংবাদটি দেখানো হয়। নবজাতকের জন্মের সংবাদে লন্ডনে টেমস নদীর পাড়ে বিখ্যাত লন্ডন আই লাল, সাদা এবং নীল রংয়ের আলোয় আলোকিত করা হয়। বিশ্ববাসীকে রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ীই নবজাতককে দেখানো হবে। তাকে স্বাগত জানানো হবে লন্ডনের গ্রিন পার্কে ৪১ বার তোপধ্বনি দিয়ে এবং ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে।