গোপালগঞ্জ ডিসি অফিস থেকে রহস্যজনকভাবে টেন্ডারের সিডিউল চুরি

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:০১
গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অর্ধকোটি টাকার কাজের সিডিউল চুরির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসির রুমে রক্ষিত টেন্ডারবক্স থেকে এ টেন্ডার সিডিউল চুরির ঘটনা ঘটে। করণীয় ঠিক করতে টেন্ডার কমিটি আগামীকাল বুধবার জরুরী বৈঠক আহবান করেছে। সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিডিউল উদ্ধারের চেষ্টা করছিল প্রশাসন। টেন্ডার দাখিলে ব্যর্থ হয়েই সিডিউল চুরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৫৬ লাখ টাকায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজের টেন্ডার দাখিলের শেষ দিনে মঙ্গলবার ঝিনাইদহের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লুত্ফর রহমান এ্যান্ড ব্রাদার্স গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টেন্ডার সিডিউল দাখিল করে। টেন্ডার দাখিলে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়ে তরিকুল ইসলামসহ দু’ যুবক দুপুরে ডিসি অফিসের এনডিসির রুমে ঢুকে টেন্ডারবক্স থেকে ওই সিডিউলটি চুরি করে নেয়। জেলা প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন হিসাবে মিঠু মুন্সিকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। মিঠু চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, টেন্ডার দাখিলে বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েই তরিকুলসহ দু’যুবক এক ঠিকাদারের নির্দেশে দাখিলকরা টেন্ডারের সিডিউল চুরি করে নেয়। গোপালগঞ্জের এনডিসি চৌধুরী আশরাফুল করিম বলেন, টেন্ডার দাখিলের শেষ দিনে বিষয়টি গোপালগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পুলিশকে অবহিত করেননি। এ কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছিল না। পুলিশ থাকলে এ ধরনের ঘটনা নাও ঘটতে পারত। এ ঘটনায় জড়িত না থাকায় আটক মিঠু মুন্সিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। গোপালগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশলের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান সিডিউল চুরির কথা এনডিসির মাধ্যমে শুনেছেন বলে দাবি করেন। টেন্ডারের বিজ্ঞপ্তিটি পত্রিকায় প্রকাশ করে সিডিউল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ পাঠানোর বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ডিসি অফিসে খাদ্য সরবরাহের আরো একটি টেন্ডার থাকায় নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ থাকার কথা ছিল। এ কারণে আমরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করিনি।