রাজপুত্রের নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যম

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:০২
ব্রিটিশ রাজপুত্রের নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব গণমাধ্যম। লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালের বাইরে ভিড় করছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র সাংবাদিকরা। সবাই অপেক্ষায় ছিলেন কখন ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটন হাসপাতালে ভর্তি হবেন। বিশ্ব গণমাধ্যমের অনেক চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় রাজপুত্রের জন্মের খবর। খবর রয়টার্সের। গোটা বিশ্ব আর গণমাধ্যমের নজর এখন এদিকে। ব্রিটেনের সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরসূরি দেখতে কেমন? তার নাম কি হবে? চুলের রঙ কেমন হবে? এ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। রাজপরিবারের ঐতিহ্যবাহী নাম জর্জ এবং জেমস নামই এখন পর্যন্ত আছে পছন্দের তালিকায়। এমনকি প্রখ্যাত ফুটবলার ডেভিড বেকহামও তার নামে সন্তানের নাম রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। উইলিয়াম কেটের গর্ভধারণের পর থেকেই এ নিয়ে খবর প্রকাশ অব্যাহত থাকে। গত তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা পশ্চিম লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন কেটের সন্তানের জন্মদানের খবর বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্য। সোমবার সকালে ৩১ বছর বয়সী কেট হাসপাতালে ভর্তি হন। আর এ খবর গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়; কিন্তু এত অপেক্ষার পরও গণমাধ্যমকর্মীরা কেট এবং উইলিয়ামের হাসপাতালে আসার ছবি ধারণ করতে পারেননি। কারণ তারা একটি অপরিচিত একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের বাইরে জার্মান চিত্রগ্রাহক কি প্রাইস বলেন, অবিশ্বাস্য ঘটনা। গত ১৩ দিন ধরে আমি এখানে অপেক্ষা করছি তাদের হাসপাতালে আসার ছবি তোলার জন্য। রাতেও আছি। অথচ ছবি তুলতে পারলাম না! মার্ক স্টুয়ার্ট নামের এক চিত্রগ্রাহক বলেন, এই ঘটনা অসাধারণ। সারা বিশ্বের সাংবাদিক এই খবর দেয়ার জন্য উদগ্রীব। কেবল পত্রিকা, ম্যাগাজিন কিংবা টেলিভিশনই নয়, ইন্টারনেটের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটেও এটি ব্যাপক আলোচিত হয়। রাজপুত্রের জন্মের পর টুইটারে প্রতি মিনিটে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিনন্দন বার্তা আসে রাজ অতিথির জন্য। হাসপাতালের বাইরে ক্যামেরা নিয়ে এখনো অপেক্ষায় আছেন চিত্র সাংবাদিকরা। কেট আর উইলিয়াম নবজাতককে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরোলেই তার ছবি তুলে নেয়ার অপেক্ষায় আছে তারা। ভিড় করছেন বাকিংহাম প্যালেসের বাইরেও। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজ সিংহাসন বিশেষজ্ঞ অ্যারিয়েন চার্নক বলেন, রাজপরিবারের সন্তানের প্রতি সারা বিশ্বের মানুষের একটি আগ্রহ থাকে। তিনি জানান, ১৯৮২ সালে বিশ্বখ্যাত পিপল ম্যাগাজিনের ১০টি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের মধ্যে প্রিন্স উইলিয়ামের জন্মের খবর ছিল একটি। সেই প্রবণতার পরিবর্তন এখনো হয়নি। বরং এখন টুইটারেও বেশি করে খবর ছড়াচ্ছে।