ঈদের পর রাজপথে নামুন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন নয়, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই। নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে আসন্ন রোজার ঈদের পর পেশাজীবীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এটা আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য। আমরা মন্ত্রিপরিষদের ঐ সিদ্ধান্ত মানি না। দেশের মানুষও এ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেখতে চায় না। ইফতারে যোগ দেয়া বিভিন্ন পেশাজীবীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা জানেন, দেশের মানুষের কী অবস্থা। এ সরকার দেশকে কোথায় নিয়ে গেছে। সরকার জানে, সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে তারা পরাজিত হবে, জনগণ ঘৃণাভরে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, সরকারের অত্যাচারে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে পেশাজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সরকার বলছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের সময়ও সরকার প্রধান থাকবেন। যদি তাই হয়, তাহলে কোনো সরকারি কর্মচারীর ঘাড়ে কী দশটা মাথা আছে যে, তার কথার অবাধ্য হবেন? তিনি বলেন, এ সরকারের সময় শেষ। যা ইচ্ছে তাই তারা আর করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে পারবেন, দেশব্যাপী ঘুরবেন—এ ধরনের দলীয় সরকারের অধীনে এ দেশের মাটিতে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূল মঞ্চে ইফতারে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এমএ মাজেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমাদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ। ইফতার পার্টিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, সাদেক হোসেন খোকা, বেগম সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এজেড মোহাম্মদ আলী, গণস্বাস্থের পরিচালক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হক ও সদস্য সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।