আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। গতকাল মঙ্গলবার সরকার তাকে এ পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। আজ বুধবার বিচারপতি খায়রুল নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। এর আগে আরো চারজন সাবেক প্রধান বিচারপতি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেন বিচারপতি এফকেএমএ মুনিম, বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন, বিচারপতি এটিএম আফজাল ও বিচারপতি মোস্তফা কামাল।
২০১০ সালের অক্টোবর মাসে কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আব্দুর রশিদের পদত্যাগ করার পর প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহ আলম। খায়রুল হকের নিয়োগের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান পেল কমিশন। কমিশনের কাজ হচ্ছে বিদ্যমান আইনের সংস্কারের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া।
২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবিএম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। ১৯৪৪ সালের ১৮ মে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় জন্ম নেয়া খায়রুল হক ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন ১৯৬০ সালে। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেয়ার পর ১৯৭৫ সালে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে তিনি বার অ্যাট ল করেন। ১৯৭০ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরুর পর ১৯৭৬ সালে হাইকোর্টে এবং ১৯৮২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন খায়রুল হক। ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন তিনি। খায়রুল হক হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৯৮ সালের ২৭ এপ্রিল। স্থায়ী হন ২০০০ সালের ২৭ এপ্রিল। এরপর ২০০৯ সালের ১৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
অবসরে যাওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিচারপতি খায়রুল হক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা, স্বাধীনতার ঘোষক, রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল, ফতোয়া অবৈধ ঘোষণার রায় দেন।
