বিনিয়োগ থমকে আছে গ্যাস-বিদ্যুত্ সংকটে

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৬
বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংকটসহ অবকাঠামোর অভাবে দেশে শিল্প ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। এরকম পরিস্থিতিতে সরকারের শেষ সময়ে এসে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ বাড়ছে। নানা উদ্যোগ নিয়েও এই টাকা উত্পাদনশীল খাতে আনতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে—সেটা বুঝে বিনিয়োগ করতে চান উদ্যোক্তারা। এজন্য ব্যাংকগুলোতে মেয়াদি ঋণের তেমন চাপ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোর আমানত এবং ঋণ প্রদানের হারে অনেক বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ হার দিন দিন বাড়ছে। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে ব্যাংকগুলোর অলস অর্থ বিনিয়োগে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী সপ্তাহে যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে তাতে উত্পাদনশীল খাতে ঋণের অর্থ বাড়ানোর দিকনির্দেশনা থাকবে। তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুত্ ও গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে ব্যাংকঋণ কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দায়িত্ব্শীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন মুদ্রানীতিতে অনুত্পাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান নিরুত্সাহিত করার পাশাপাশি উত্পাদনশীল খাতে ঋণ প্রদানে উত্সাহ দেয়া হবে। বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে আমানত এবং ঋণের ব্যবধান অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। কোন কোন ব্যাংকে ঋণ প্রদানের হার আমানতের ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনবছর আগে আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানের হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিলো বলে জানা যায়। এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ইত্তেফাককে বলেছেন, নির্বাচনের বছরে এমনিতেই বিনিয়োগের গতি কমে আসে। এ সময়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ তেমন হয় না। সবাই একটু সময় নিতে চায়। এর বাইরে আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যা আমাদের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। বিদ্যুত্ এবং গ্যাসের অভাবে বিনিয়োগকারীরা নতুন নতুন কারখানা স্থাপনে উত্সাহিত হচ্ছেন না। তাঁর মতে, যেসব ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ব্যবসায় জড়িত থেকে নিজেদের সামর্থ্য বাড়িয়েছেন তারা তাদের ব্যবসা সমপ্রসারিত করছেন না। এর সাথে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাও যুক্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মুদ্রানীতির কারণে কিছু খাতে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অংকের ঋণ কেলেংকারির কারণে অনেক ব্যাংক ঋণ প্রদানে বেশি যাচাই-বাছাই করছে। এতে ঋণের গতি শ্লথ হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সালাম মূর্শেদি ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক যেমন সমস্যায় আছে, তেমনি উদ্যোক্তারাও সমস্যায় আছে। উচ্চ সুদে আমানত নিয়ে তা এখন অনেকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের হার কমে যাবার পেছনে মূলত:সরকারের নীতি দায়ী। এর সাথে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। ঘন ঘন হরতালের কারণে অনেকে বিনিয়োগে উত্সাহিত হয় না। সালাম মূর্শেদির মতে, বর্তমানে নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের কোন সুযোগ নেই। বিদ্যুত্ এবং গ্যাস সংযোগ না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নিরুত্সাহিত হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেকে তাদের কারখানায় নতুন করে বিনিয়োগ করছে না।