সিরিয়ার বিদ্রোহীরা দাবি করেছেন, তারা আলেপ্পোর পশ্চিমাঞ্চল পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। কয়েক মাস ধরে বাশার বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশটির ওই অংশ তারা দখলে নেন। এদিকে আলেপ্পোর খান আল আসাল শহরে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে সরকার ও বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে একে অপরকে দোষারোপ করে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ইন্টারনেটে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বলা হয়, আমরা আলেপ্পোতে ঢুকার পশ্চিমের পথ দখল করে নিয়েছি। আমরা সক্ষম হয়েছি এ অঞ্চলকে স্বাধীন করতে। তারা বলেন, এই দখলের মাধ্যমে আমরা খান আল আসাল শহরটিকে পুরোপুরি স্বাধীন করতে পেরেছি। আর এ থেকেই আমরা বলতে পারি যে, আলেপ্পোর একটা বিরাট অংশ আমরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছি। বিদ্রোহীরা বলেন, খান আল আসাল হচ্ছে আলেপ্পোতে বাশার বাহিনীর একটি শক্তিশালী দুর্গ। এটি দখল করতে পেরে আমরা সেই দুর্গের পতন ঘটাতে পেরেছি। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ওই শহরটি তুরস্কের সীমানার কাছে অবস্থিত। এটি দখল করতে পেরে বিদ্রোহীদের অবস্থান আরো এক ধাপ এগুলো। বিদ্রোহীরা আরো জানান, তারা আলেপ্পোর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওবাইদা এবং হাজিরেহ গ্রামটিও দখল করেছেন।
এদিকে সিরিয়া সরকার এবং বিদ্রোহী উভয়েই একে অপরকে দোষারোপ করে বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় খান আল-আসাল শহরে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জাতিসংঘ দূত রবার্ট সেরি অভিযোগ করে বলেছেন, আমাদের পাওয়া তথ্য মতে, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রে ১৩ জন নিহত হয়েছে। এ ধরনের একটি অভিযোগ এমন সময়ে আসলো যখন দেশটিতে জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র পরিদর্শক অ্যাকলে সেলসস্টর্ম ও নিরস্ত্রীকরণ প্রধান অ্যাঙ্গেলা কেনের গতকাল বুধবার আসার কথা। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।
