আগামী দশকে ভারতের চেয়েও ধনী হবে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ২৩:১১

অর্থনীতির বিচারে আগামী দশক হবে এশিয়ার এবং এই মহাদেশের দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হবে খুবই উল্লেখযোগ্য। ২০২০ এর দশকে এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে সাত শতাংশ এবং পুরো দশক ধরে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সমপ্রতি প্রকাশিত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এশিয়ার এই দেশগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার এবং ফিলিপাইন। ব্যাংকের ভারত ভিত্তিক গবেষণা শাখার প্রধান মাধুর ঝা এবং সারা বিশ্বে ব্যাংকটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যান এই গবেষণা পরিচালনা করেন। খবর বিবিসি’র

বিশাল জনসংখ্যার সুবিধা

গবেষকরা বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে সবচেয়ে বেশি। কারণ এসব দেশের লোকসংখ্যা হবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক   পঞ্চমাংশ। বিশাল জনসংখ্যা ভারতের জন্য আশীর্বাদ হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিনিয়োগ থেকে সুফল পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ যা তাদের উত্পাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এশিয়ায় এই পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে ২০১০ সাল থেকে। তখন থেকেই স্ট্যার্ন্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এই দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর নজর রাখতে শুরু করে।

ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ব্যাংকটি বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় যেখানে ১ হাজার ৬০০ ডলার সেখানে ২০৩০ সালে পৌঁছাবে ৫ হাজার ৭০০ ডলারে। একই সময়ে ভারতে মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪০০ ডলার। যদিও বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৯০০ ডলার। এদিকে ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর ক্লাবে গত চার দশক ধরেই ছিল চীন। কিন্তু এবার চীন বাদ পড়েছে। কারণ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় শ্লথ হয়ে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, আগামী এক দশকে চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৫ ভাগ। গবেষক মাধুর ঝা এবং ডেভিড ম্যান বলেছেন, দ্রুত এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশগুলোতে আয়ের বৈষম্য, অপরাধ, দূষণ এসব ব্যাপারেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। দ্রুত প্রবৃদ্ধি যে লোকজনকে শুধু চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে সাহায্য করে তা নয়, এর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও কমে। এর ফলে অনেক ধরনের সংস্কারের কাজও সহজ হয়ে পড়ে।