নির্বাচনে সকল দল অংশ নেবে :সৈয়দ আশরাফ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৪৬
জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ডিসিদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে আইন-শৃংখলা রক্ষার কাজে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হবে না। সব দলের কাছেই নির্বাচনী ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে। মন্ত্রী পরিষদ সভা কক্ষে ডিসিদের সঙ্গে নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান যে, ডিসিদের তিনি কী কী বলেছেন। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ কয়েকটি উপ-নির্বাচন এ সরকারের আমলে হয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হয়নি। আগামী নির্বাচনে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকরা যাতে আরো জোরালো ভূমিকা রাখেন সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবলের স্বল্পতার কারণে জাতীয় নির্বাচনে ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়। আগামী সাধারণ নির্বাচনেও এমন দায়িত্ব দেয়ার সম্ভাবনার কথা ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে ডিসিদের দেয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর বার্তা তাত্পর্যপূর্ণ। সূত্র জানায়, ডিসিদের পক্ষ থেকে ইউএনও-উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবার জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে কোথাও কোথাও উপজেলা পরিষদের চেয়ারমানদের দ্বন্দ্বের বিষয় উত্থাপন করে তা নিরসনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান। ঈদে রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী রাখুন: নিজেদের কোন দায়িত্ব, কর্তৃত্ব না থাকলেও ডিসিদেরকেই রাস্তাঘাট ঠিক রাখার পরামর্শ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী এ পরামর্শ দেন। মন্ত্রী বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে কোনো দুর্ভোগের শিকার না হন, সে জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যানজট নিরসনে যাবতীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজধানীসহ সড়ক ও মহাসড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও বাজার উচ্ছেদ করার পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রী নির্দেশনা দেন। এছাড়া ঈদে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধের পদক্ষেপ নিতেও মন্ত্রী নির্দেশ দেন। অবশ্য এসব বিষয়ে ডিসিদের কোন দায়িত্বই নেই। আলু বীজ বিক্রিতে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা: কৃষকের উত্পাদন খরচ কমিয়ে আলু চাষ স্বাভাবিক রাখতে আলু বীজ আমদানি ও স্থানীয় ভাবে বিক্রির সরকারিভাবে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা চাইলেন জেলা প্রশাসকরা। আলোচনায় মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বাদল বলেন, আলু উত্পাদনের ক্ষেত্রে ভাল বীজ অন্যতম শর্ত। বেশিরভাগ ভাল মানের আলু বীজ বেসরকারিভাবে আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সরকারিভাবে এর দাম নির্ধারণ না করায় মৌসুম চলাকালে আমদানিকারকরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করে আলু চাষীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করে থাকে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মাহফুজুল ইসলাম জানান, নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় অন্যান্য ফসলের প্রফিট মার্জিন হ্রাস পাওয়ায় তামাক চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের কঠোর হতে নির্দেশ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের। জেলা প্রশাসকরা দ্রব্যমূল্য নিযন্ত্রণের কাজটি আরো সুচারুরূপে কিভাবে সম্পন্ন করতে পারেন তা মন্ত্রী জানতে চান। মন্ত্রী তাদেরকে জানান, বাজার তদারকির সময় মূল্য রশিদ বিবেচনায় নেয়া, পাইকারি ব্যবসায়ী, খুচরা ব্যবসায়ী কত পণ্য কিনে কত টাকায় বিক্রি করছে এটা বিবেচনায় নিয়ে বাজার তদারকি করলেই কেউ অতিরিক্ত দাম রাখতে পারবে না। অবশ্য কেউ বেশি মূল্য নিয়ে পরে নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেটদের সামনে অস্বীকার করলে ডিসিদের কিছুই করার আইন নেই। জেলা প্রশাসকরা ফরমালিন নিযন্ত্রণের সুপারিশ করেছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথযথ প্রয়োগ এবং জনসাধারণ যাতে হয়রানি না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে ডিসিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।