দেশে নিউজপ্রিন্টের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে নিউজপ্রিন্টের দর কমতির দিকে থাকলেও দেশের বাজারে বাড়ছে। স্থানীয় কাগজ উত্পাদনকারীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাগজের দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য দিকে, স্থানীয় কাগজের মানও আন্তর্জাতিক কাগজের মানের চাইতে অনেক পিছিয়ে। ফলে ছাপার সময় প্রচুর কাগজ নষ্ট হচ্ছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে স্থানীয় নিউজপ্রিন্টের দর টনপ্রতি ৪৫ হাজার টাকা। অথচ এক মাস আগেও দাম ছিল ৩৬ হাজার টাকা। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় নিউজপ্রিন্টের দাম বেড়েছে টনপ্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা! কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের দর কমতির দিকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মানের নিউজপ্রিন্টের দর কমে ৫১০ মার্কিন ডলারে (প্রায় ৪২ হাজার টাকা) এসে দাঁড়িয়েছে।
দেশের সংবাদপত্র শিল্প মূলত নিউজপ্রিন্টের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় নিউজপ্রিন্টের মানও আমদানিকৃত নিউজপ্রিন্টের মতো নয়। কিন্তু নিজউপ্রিন্টের আমদানিতে অত্যধিক শুল্ককর থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দর কম থাকা সত্ত্বেও আমদানি খরচ বেশি পড়ে। সংবাদপত্র শিল্পের জন্য আমদানিকৃত নিউজপ্রিন্টের বর্তমান শুল্ক-কর প্রায় ৩১ শতাংশ।
পেপার ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সফিকুল ইসলাম ভরসা ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক থাকায় দেশীয় কাগজের মিল মালিকরা একচেটিয়া কারবারের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় কাগজের মান এখনো আন্তর্জাতিক কাগজের মানের চাইতে অন্তত ২০ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো কারখানা মালিক নিজেও বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করেন। তিনি বলেন, পেপারের আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো হলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার কমে যাবে। বাণিজ্যিক আমদানি বাড়বে। ফলে বর্তমানের চাইতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্বও আদায় করা সম্ভব হবে।
সংবাদপত্রের মূল উপাদান নিউজপ্রিন্ট। সংবাদপত্র শিল্পের মালিকদের সংগঠন নোয়াবও স্থানীয় নিউজপ্রিন্টের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি বাজেট আলোচনায় নোয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়, অত্যধিক শুল্ক-কর পরিশোধ করে সংবাদপত্র শিল্পের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
