পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনের এমপি গোলাম মাওলা রনি গ্রেপ্তার হওযায় গতকাল বুধবার বিকালে গলাচিপা ও দশমিনায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। গলাচিপায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল সমাবেশ করে। মিছিলকারীরা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস চত্বরে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ শেষে মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা টিটো বলেন, রনিকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ কলঙ্কমুক্ত হল। তিনি মূলত জামায়াতের লোক, আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল করা উচিত। রনিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে যে ইতিবাচক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে তাতে গলাচিপা-দশমিনাকে পূর্বের ন্যায় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।
এদিকে, দশমিনা সদরে গতকাল বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী কামাল ও উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন শওকতের নেতৃত্বে পৃথক দু’টি আনন্দ মিছিল বের হয়।
এব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর বলেন, এমপি রনি আসলে আওয়ামী লীগের লোক নন। তিনি উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সাথে জড়িত। ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজে পড়াশুনাকালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। রনি আওয়ামী লীগে একজন অনুপ্রবেশকারী। তার কথিত ভাইয়া বাহিনীর হাতে গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বহু নেতা-কর্মী লাঞ্ছিত হয়েছে। সেখানে সংগঠনকে তিনি দ্বিধা-বিভক্ত করে রেখেছেন। তিনি শুধু ঢাকায় সাংবাদিকদের উপর হামলা করেননি। এর আগে গলাচিপায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিক তার বাহিনী কর্তৃক হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসাবে চিহ্নিত ঐ আসনটি হারানোর আশংকা রয়েছে।
