শ্যালো মেশিন ও বোমা মেশিন পুড়িয়ে দিলো টাস্কফোর্স

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৫
সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলং, নয়নাভিরাম পর্যটন এলাকা দেশের বৃহত্তম ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে এই এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে ভূমির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। সিলেট এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। তারপরও এখানে বিভিন্নভাবে চলছে পরিবেশ ধ্বংসের কর্মকাণ্ড। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সিলেটের জাফলং-ভোলাগঞ্জ এলাকা। এখানকার মাটির নিচে ও ওপরে অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার । কিন্তু কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষী মানুষ এগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। পাহাড়-ঝর্ণা, বন-বনানী শোভিত এসব এলাকা ছিল এক সময় নির্জন-নির্মল। সেখানে শোভা পেতো বন্য প্রাণী। পাখীর কলতানে মুগ্ধ হতো দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা। এখন প্রকৃতির এই মায়বী স্থানে পাথর শ্রমিকদের দিনরাত কোলাহল। হয়তো লাখ পাথর শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু যেভাবে পাথর উত্তোলন হচ্ছে বা সবুজ বন উজাড় হচ্ছে তাতে খুব অল্প সময়েই এলাকাটি মরুভূমি হয়ে যাবে এমন আশংকা সচেতন মানুষের ও পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার। বেলাও দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকার পরিবেশ বাঁচাতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। বেশ কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত পরিবেশ ধ্বংসী বহুল আলোচিত ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে পাথর উত্তোলন বেআইনি ঘোষণা করেছে। তারপরও এলাকার ‘পাথর খেকু’ সিন্ডিকেট বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলন করে চলছিল। এই সিন্ডিকেটে স্থানীয় ‘গড ফাদাররা’ জড়িত। তারা প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের হাত করে তস্করের মত লুটে নেয় পাথর সম্পদ। এ নিয়ে এলাকায় বহু রক্তারক্তির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদ সমাবেশও অনেক হয়েছে। টাস্কফোর্সের অভিযান হলে কিছুদিন বন্ধ থাকে। এরপর আবার যেই সেই। অবশ্য টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বলেছেন তারা অভিযান চালিয়ে যাবেন। গত সোমবার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পিয়াইন নদীর তীরে বহুল আলোচিত মন্দিরের জুম ও পিয়াইন নদীতে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। এদিন সকাল ১০টা-দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চলে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স টিম গঠন করে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় মন্দিরের জুম এলাকার পার্শ্ববর্তী একটি গর্তে অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত ৭টি শ্যালো ও বোমা মেশিন ভাঙচুর এবং আগুন দিয়ে বিনষ্ট করে দেন। অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শক মো. এন এ কে সিদ্দিক, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুর রহমান খান, বিজিবি ৫-এর তামাবিল সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডার আবুল খায়ের, সংগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল কুদ্দুস, গোয়াইনঘাট থানার এসআই রফিক আহমেদসহ পুলিশ ও বিজিবির ৩০-৪০ জন সদস্য। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, জাফলং এলাকা থেকে অবৈধ পন্থায় পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশ রক্ষায় কোন ধরনের দানব যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে দেয়া হবে না।