রবিবার যুক্তি উপস্থাপন শুরু

করাচিতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হয় :চতুর্থ সাক্ষী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৬
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৮ জুলাই রবিবার দিন ধার্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত যুক্তি এবং আসামি পক্ষ ৩১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে চতুর্থ সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল মোমিন চৌধুরী (৭৪)। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষদিকে করাচিতে থাকার সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হয়। সাক্ষীর জবানবন্দি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা তাকে জেরা শেষ করেন। গতকাল আসামি পক্ষের চতুর্থ সাক্ষী বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমানের ও পঞ্চম সাক্ষী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শামীম হাসনাইনের সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে বলেন, ‘আসামি পক্ষের চার নম্বর সাক্ষী অসুস্থ এবং তিনি এখন সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থান করছেন। তাই তার বিকল্প হিসেবে আরেকজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দেয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’ এ সময় ট্রাইব্যুনাল নতুন সাক্ষীর নাম জানতে চাইলে তিনি সালাহউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে পরামর্শ করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমিন চৌধুরী সাক্ষ্য দেবেন। তৃতীয় সাক্ষী কাইয়ুম রেজা চৌধুরী জবানবন্দিতে তার নাম উল্লেখ করেছিলেন। তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা আপনাদের একটি সুযোগ দিতে চাই। এক ঘণ্টার মধ্যে সাক্ষী হাজির করতে পারলে জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের জেরা শেষে আজই সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করা হবে।’ এরপর সাড়ে ১২টার দিকে সাক্ষী মোমিন চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। তবে সাক্ষীর নাম তালিকায় না থাকায় এতে আপত্তি জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। পরে সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল। জবানবন্দিতে মোমিন চৌধুরী বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আমি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৬৮ সালে সিরিয়ার দামেস্কস্থ তত্কালীন পাকিস্তান দূতাবাসে থার্ড সেক্রেটারি হিসেবে যোগদান করি। ১৯৭০ সালে বাবার মৃত্যুতে আমি প্রায় এক মাসের জন্য ঢাকায় আসি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৩০ জানুয়ারি আমার স্ত্রী সিরিয়া থেকে বৈরুত ও পরে করাচি হয়ে ঢাকায় আসে। ঢাকার উদ্দেশ্যে তাকে পাঠানোর পর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ হচ্ছিল না। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সরকার আমাকে দামেস্ক থেকে তাঞ্জানিয়ায় বদলি করে। স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে আমি ছুটি নিয়ে ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে করাচি পৌঁছাই। করাচিতে আমার বন্ধু আবদুল জলিলের সঙ্গে গার্ডেন রোডের সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হোস্টেলে দুই সপ্তাহের মতো ছিলাম। তখন ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য থাকলেও বিমানে আসার টিকিট পাচ্ছিলাম না। পরে স্ত্রীর খোঁজ নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাই। তিনি বলেন, আমার ব্যাচমেট হাবিবুন নবী আশিকুর রহমান সিন্ধু সরকারের অধীনে কমর্রত ছিলেন। একদিন আমি আশিকুরের অফিসে গিয়ে একজন ভদ্রলোক বসে আছেন। আশিকুর ওই ভদ্রলোককে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, তার নাম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। আশিকুরের অফিসে অবস্থানকালে জানতে পারি, কাইয়ুম রেজা চৌধুরীও করাচি আছেন। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। তবে কাইয়ুম রেজা আমার শাশুড়ির দিক থেকে আত্মীয় ছিলেন। পরে একদিন কাইয়ুম রেজা করাচিতে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। সে জানায় আমার স্ত্রী ও মেয়ে নিরাপদে আছে; তবে কোথায় আছে তা বলতে পারেনি। পরে আমি একজন কূটনীতিকের পরামর্শে পাকিস্তান ছেড়ে দামেস্ক হয়ে তাঞ্জানিয়ায় চলে যাই। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম। জেরার জবাবে মোমিন চৌধুরী বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে জেনে শুনে বুঝে সত্য কথা বলতে এসেছি। পাকিস্তানের দালালি করিনি বলেই বঙ্গবন্ধু আমাকে মুক্তিযুদ্ধের পর কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। এ মামলায় সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে চার জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে ৪১ জন।