পিরোজপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় নারী অপহরণকারী আটক

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৮
ঘনিষ্ঠতার ছলে পিরোজপুরের জনৈকা স্কুল ছাত্রীর সাথে অনৈতিক দৈহিক সম্পর্ক সৃষ্টি করে এক মহিলা নারী পাচারকারীর বিদেশে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে র্যাবের সহায়তায় পুলিশ। ঢাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে ভিকটিম (১৪) এবং গ্রেফতার করা হয়েছে অপহরণকারী চক্রের সদস্যা সানজিদাকে (২২)। পিরোজপুর থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর এ দু’জনকে সদর থানা পুলিশ র্যাব-২ এর সদস্যদের সহায়তায় ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে গত মঙ্গলবার আটক করেছে। এরপর তাদের গতকাল বুধবার পিরোজপুর থানায় আনা হয়। বুধবার সকালে ঢাকা থেকে পিরোজপুরে সদর থানায় তাদের নিয়ে আসার পর জিজ্ঞাসাবাদে এই অপহরণের বেশ কিছু কাহিনী বেরিয়ে আসে। পিরোজপুর শহর থেকে উক্ত অপহূতা স্কুল ছাত্রীর পিতা গত ২০ জুলাই শনিবার অপহরণকারী সানজিদা আক্তারের নামে নারী পাচার ও অপহরণ আইনে পিরোজপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নামে। উক্ত স্কুল ছাত্রীকে গত সপ্তাহে অপহরণের পর সানজিদা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার মা-বাবার কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর দেড় লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে তাকে গ্রেফতারের ফাঁদ পাতে পিরোজপুরের পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দারোগা বাদল কৃষ্ণ দাস বাবা সেজে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে র্যাবের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামি সানজিদাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর নিয়ে আসে। আপহূতার মা জানান, দুই মাস আগে সানজিদা তাদের বাসার পাশেই একটি রুম ভাড়া নিয়ে তার মেয়ের সাথে মিশতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মেয়েকে পড়া দেখিয়ে দেয়ার নামে ঘনিষ্ঠ হয় এবং গত সপ্তাহে তাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে ঢাকায় গ্রেফতারের পর সানজিদা র্যাবকে জানায়, তারা একে অপরকে দীর্ঘদিন ধরে ভালোবাসে এবং ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে সোমবার সন্ধ্যায় ওই বাসায় সিঁদুর পরিয়ে সে উক্ত মেয়েটিকে বিয়ে করেছে। তবে পিরোজপুর নিয়ে আসার পর সে বলে, বন্ধুত্বের কারণেই তারা ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছিল। এদিকে ভিকটিম স্কুল ছাত্রীটি পুলিশকে বলেছে, ঢাকায় সানজিদা তাকে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত করা ও বিদেশে পাঠানোর জন্য পাসপোর্ট করার উদ্যোগ নিয়েছিল। অতীতেও কয়েকবার সানজিদা এভাবে প্রলোভনে ফেলে কয়েকজনকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা ইত্তেফাককে বলেন, প্রাথমিকভাবে সমকামিতার ঘটনা মনে হলেও নেপথ্যে একটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা থাকা অসম্ভব নয়। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে মূল রহস্য উন্মোচিত হবে। সানজিদার বিরুদ্ধে আগেও মামলা হয়েছে। আরও জানা গেছে, সানজিদা পিরোজপুর সরকারি সোহ্রাওয়ার্দী কলেজের বাংলা অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ও গ্রামের বাড়ি মঠবাড়িয়ায়।