ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ১৯:৪৫
ইফতার শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো রোজা ভেঙ্গে ফেলা। অর্থাত্ রোজাদার ব্যক্তি সূর্যাস্তের পর আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য যে পানাহার করে তাকে ইফতার বলে। সারাদিন রোজা রেখে রোজাদার ব্যক্তি ইফতারের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। হাদীস শরীফে রসূল (স.) ইফতারের বহুবিধ বরকত ও ফজিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রসূল (স.) বলেছেন যে, রোযাদার ব্যক্তির জন্য রয়েছে দুইটা আনন্দ। একটা হলো ইফতারের সময়, অন্যটা তাঁর রবের সাথে দেখা করার সময় (বুখারী, মুসলিম)। অন্য হাদীসে, নবী করীম (স.) বলেন, “যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা এতে বরকত রয়েছে, যদি খেজুর না পায় তাহলে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্রকারী ’’(তিরমিযী, আবু দাউদ, আহমদ, ইবনে মাজা) । হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রসূল (স.) বলেন— পাঁচ ব্যক্তির দোয়া, যাদের দোয়া প্রত্যাখান করা হয় না। (১) রোজাদারের দোয়া, (২) ন্যায় পরায়ন শাসকের দোয়া, (৩) মজলুমের দোয়া, (৪) পিতা-মাতার দোয়া ও (৫) মুসাফিরের দোয়া। রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় অথবা আল্লাহর মুজাহিদকে জিহাদের সরঞ্জাম প্রদান করাবে সে রোজা ও জিহাদের অনুরূপ সাওয়াব লাভ করবে, নবী করিম (স.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের ও জাহান্নামের আগুন হতে নাজাতের উসিলা হবে এবং সে ঐ রোজাদারের সমপরিমান সওয়াব লাভ করবে। এতে রোজাপালনকারীর সওয়াব ও বিন্দুমাত্র কমবে না। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল আমাদের সবার তো রোজাদারকে ইফতার করানোর সামার্থ্য নেই। রসূল (স.) তখন বললেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে একঢোক দুধ অথবা একটা খেজুর বা একটু পানি দ্বারা ইফতার করাবে তাকেও আল্লাহ এই সওয়াব দান করবেন (বায়হাকী)। খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব, খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ও ইফতার করা যায়। সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করা সুন্নাহ। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসূল (স.) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের ভেতর তারাই আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় যারা শীঘ্র ইফতার করে’’(তিরমিজি)। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর বিনা কারণে দেরি না করার জন্য রসূল (স.) নির্দেশ দিয়েছেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই ইফতার সামনে নিয়ে বসে দ্বীনের আলোচনা করা এবং দোয়া করা, কারণ এ সময় দোয়া কবুল হয়। আর যেহেতু ইহুদী নাসারারা ইফতার বিলম্বে করে তাই নবী করিম (স.) তার উম্মতদের কে ইফতার তাড়াতাড়ি করে ইহুদী ও নাসারাদের রোজা হতে আমাদের রোজাকে পৃথক করতে বলেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রসূল (স.) বলেছেন,‘‘ যখন লোকেরা ইফতার তাড়াতাড়ি করবে তখন দ্বীন বিজয়ী থাকবে, কেননা ইহুদী ও নাছারারা ইফতার বিলম্বে করে’’ (আবু দাউদ, তিরমিজী) । তবে সূর্যাস্ত সম্পর্কে সন্দেহ থাকাবস্থায় ইফতার করা জায়িয নয়। ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, ‘‘ যদি কোন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে সূর্য ডুবে গেছে মনে করে ইফতার করে অত:পর জানতে পারে যে সূর্য ডুবেনি, সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং পরবর্তীতে এই রোজার কাযা করে নিবে’’ (মূয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, সাওম অধ্যায়)। ইফতার হবে সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র জিনিস দিয়ে। আবার হালাল হলেও বেশি খাওয়া যাবে না। সারাদিন রোজা পালন করার পর ইফতার করার সাথে সাথে শরীর হয়ে উঠে সজিব, মন হয়ে উঠে প্রফুল্লও আরামদায়ক। উপার্জিত অর্থ যদি হালাল না হয় এবং সেই অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত খাদ্য দ্রব্য দিয়ে ইফতার করা হয় আর যদি ইবাদত কবুল না হয় তবে সব কিছুই হবে মূল্যহীন।