জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন এবং রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন চুক্তি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৪
ছোটবেলায় গ্রামে-গঞ্জে, বন-বাদারে, পথে-ঘাটে যেসব গাছপালা, প্রাণী দেখেছি সেগুলোর বেশ কিছু এখন আর দেখি না। প্রায় প্রতিবছরই একাধিক উদ্ভিদ এবং প্রাণী আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রাণী বা উদ্ভিদেরই ভূমিকা রয়েছে। এসব প্রাসঙ্গিক দিক বিবেচনা করেই সম্প্রতি মন্ত্রীসভায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন ২০১৩-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। এই আইনের আওতায় শাস্তির কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। কিন্তু এই আইন প্রণয়নের পদক্ষেপের পাশাপাশি যখন সরকারি আরেকটি পদক্ষেপ পর্যালোচনা করি তখন নিঃসন্দেহে হতাশ হতে হয়। সেটি হলোঃ বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র স্থাপন চুক্তি। মাস কয়েক আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যে কোনো বিদ্যুত্ কেন্দ্রের আশেপাশের পরিবেশ কীভাবে বিপর্যস্ত হয় তা সাধারণ মানুষ বোঝে। এক্ষেত্রে রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই দূষণ নেমে আসবে—শব্দদূষণ বায়ুদূষণ, পানিদূষণ। আর এসবের ফলে আশেপাশের পরিবেশ তথা জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে করে আমাদের ঐতিহ্য তথা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বে সুন্দরবন এবং রয়েল বেঙ্গল টাইগার কেবলমাত্র আমাদের দেশেই আছে। কাজেই, সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ—জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইন-২০১৩-এর আলোকে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনার অবকাশ রাখে। জনৈক পরিবেশবাদী