টুপি তৈরিতে মহাব্যস্ত মহাদেবপুরের নারী কারিগরেরা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২১:১৪
ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁর মহাদেবপুরের টুপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নারী কারিগররা। এসব কারিগরদের তৈরি টুপি দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। টুপির চাহিদা সারাবছর থাকলেও ঈদ মৌসুমে এসে এ চাহিদা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। টুপির এ বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন কারিগররা। এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার নারী কারিগর টুপি তৈরির সাথে জড়িত। আগে যে পরিবারগুলো শুধুমাত্র পুরুষ সদস্যের আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল সেসব পরিবারের মেয়েরা এখন টুপি সেলাই করে বাড়তি আয় করে সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। উপজেলার শিবরামপুর, বিলমোহাম্মদপুর, লক্ষণপুর, রামচন্দ্রপুর, হরিরামনগর ও ভালাইন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাড়ি বাড়ি চলছে টুপি তৈরির কাজ। শিবরামপুর গ্রামের টুপির কারিগর তানজিমা জানান, সে সারাবছর অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা আয় করে। ঈদ মৌসুমে এ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা। শুধু তানজিমাই নয় গ্রামের জোসনা, মারিয়া, মুক্তা, মাসুদা, নাছিমা, আঙ্গুরী ও মারিয়াসহ অনেক নারী টুপি তৈরি করে প্রতিমাসে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মেটাচ্ছেন। এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার ফাঁকে অবসর সময়ে টুপি সেলাই করে লেখাপড়ার খরচ মিটিয়েও বাড়তি আয় পিতার সংসারে দিচ্ছে। স্কুলছাত্রী দিলরুবা, সাথী, নাদিরা ও পারভীন সুলতানা জানায়, তাদের দরিদ্র পিতার পক্ষে জামা-কাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ যোগানো সম্ভব হয় না। প্রতিবেশীদের কাছে টুপি সেলাই করা শিখে এখন তারা বাড়তি আয় করে লেখাপড়ার খরচসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে অবশিষ্ট টাকা পিতার সংসারে দিচ্ছে। টুপির কারিগর মুক্তা জানান, পরিশ্রম করে কারিগররা টুপি তৈরি করলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মহাজনদের পকেটে। মহাজনরা তাদেরকে একটি টুপি তৈরির জন্য দেন মাত্র ৩৫০ টাকা। এ টুপিই মহাজনরা দুবাই ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি করেন।