জবিতে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৬

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৩
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ ও ছাত্রদলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। ছাত্রদল কর্মীরা এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ রাবার বুলেট ছোঁড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে। এসময় নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনের সড়কে যানবাহনে ভাংচুর চালায়। ছাত্রদলের একটি অংশ বাহাদুরশাহ পার্কের বিপরীতে অবস্থিত সরকারি কবি নজরুল কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশ অভিযোগ করেছে, ছাত্রদল কর্মীরা কবি নজরুল কলেজের সামনে থেকে গুলি করতে থাকে। এতে বাহাদুর শাহ পার্কের আশপাশে দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকা ৪ জন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় ছাত্রদলের হামলায় কোতোয়ালী থানার ওসি শাহ আলমসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের রাবার বুলেটে ছাত্রদলের দুই কর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নাঈম ও সিরাজ নামে ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আটক করে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর জন্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করা হচ্ছিল। বিক্ষোভ শেষে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ বিনা কারণে পেছন থেকে আক্রমণ করে। এতে ছাত্রদলের ১০ কর্মী আহত হয়। কোতোয়ালী থানার ওসি শাহ আলম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। ছাত্রদলের নিজের গুলিতেই তাদের দুই কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা বলেন, সংঘর্ষের এ ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে, তবে যে কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে।