আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দুই ধরনের সরকার পদ্ধতির চিন্তা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কোন ধরনের সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে তা ঠিক করবে বড় দুই রাজনৈতিক দল বা জোট। এর জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে এ সমস্যা সমাধান করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, আমরা সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই।
ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীনরা চাইছে পঞ্চদশ সংবিধানের আলোকে তাদের অধীনে নির্বাচন করতে। অপরদিকে, বিরোধী দল চাইছে বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করে তার অধীনে নির্বাচন করতে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা বিতর্ক।
নির্বাচনকালিন সরকার এখনো নির্ধারিত হয়নি, এর কারণে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোন সমস্যা মনে করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা আমরা আগেও বলেছি। এটি রাজনৈতিকভাবে সমাধান হতে হবে। দেশের প্রধান দুটি বড় দল রয়েছে, তাদের মধ্যে একটা সমঝোতা হতে হবে। আমরা বলেছি সবার অংশগ্রহণে একটা ভালো নির্বাচন হোক এটা আমরা চাই।
তিনি বলেন, সময় কম হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকালিন সরকার পদ্ধতি যতদ্রুত সমাধান হয় সেটি কমিশনের জন্য সুবিধা। তা না হলে আমাকে দুই রকম পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। তবে দুই ধরনের প্রস্তুতির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন থাকবে না। আমাদের সব সময় প্রস্তুতি রাখতে হবে। ওই সময়ে যে ধরনের সরকার থাকবে ওই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে হবে।
আগামী নির্বাচন সেনাবাহিনী ছাড়াই হবে সৈয়দ আশরাফের এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, উনি যেটা বলেছেন সেটা উনার পর্যবেক্ষণ থেকে বলেছেন এবং বলতেই পারেন। আমাদের আবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। প্রত্যেকটি নির্বাচনের আগে আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে অগ্রসর হই।
নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে সিইসি বলেন, এ বিষয়ে আমরা আপনাদের আগেও বলেছি। ছোট- হোক বড় হোক প্রত্যেকটি নির্বাচনের আগে আমরা বসি। তফসিল ঘোষণার পরে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে নিয়ে এবং মাঠ পর্যায়ের সার্বিক তথ্য নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করি। এটি ডিফারেন্ট বিষয়। এতো আগে অনুমান করে বলা যায় না। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য আমরা আলাদা করে দেখি না। প্রত্যেকটা নির্বাচনের আগে নির্বাচনের পজিশন ঠিক করা হয় বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরপিও আমরা পাঠিয়েছি। এটির মধ্যে অনেক জটিলতা রয়ে গেছে, সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি আমরা আগেও পাঠিয়েছিলাম। কিছু সংশোধনী ছিল তা ফুলফিল করা হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। প্রথমে যা রেখেছিলাম এখনো তাই রাখা হয়েছে। আর এগুলো চলমান প্রক্রিয়া।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আচরণবিধি নিয়ে আমরা এখনো বসতে পারিনি। ছোট-খাট সংশোধন থাকলে সেটা একরকম চিন্তা করবো আর বড় ধরনের কোন সংশোধনের প্রয়োজন হলে ভিন্ন চিন্তা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা অনেক দিন ধরে চাকরি করছেন। তাদের পদোন্নতি হতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে কমিটি করেছি। আশা করছি ঈদের আগে তাদের সমস্যা সমাধান হবে।
