বিদ্যুত্ সরবরাহ কাজে জেলা প্রশাসকদের সর্বাত্মক সহায়তা দিতে ১৬টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসাথে সরকারের শেষ সময় ও রমজানের কথা বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে আছে বৈদ্যুতিক স্থাপনার নিরাপত্তা, অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল আদায়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বিদ্যুত্ জ্বালানি সম্পর্কে আলোচনায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ সচিব, জ্বালানি সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত থেকে এই নির্দেশনা দেন।
প্রায় সব জেলাতেই বিদ্যুতের ওভারলোডজনিত সমস্যায় বিদ্যুত্ বিতরণ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জেলা প্রশাসকরা অভিযোগ করেছেন। তারা এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নড়াইল, গাইবান্ধা, বান্দরবান, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকরা নিজেদের এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকদের কাছে সরকারের গত চার বছরের সাফল্য তুলে ধরা হয়। বিদ্যুত্ খাতের সাফল্য তুলে ধরে বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ৯ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার ৬৯টি বিদ্যুত্ কেন্দ স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৮৭০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার ৫৫টি কেন্দ থেকে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি খাতে ১ হাজার ৬৮৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৯টি এবং দুই হাজার ১৮৩ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার ৩৬টি কেন্দ আছে। স্থাপিত কেন্দ গুলোর মধ্যে এক হাজার ৮৭৩ মেগাওয়াট বা ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ গ্যাসভিত্তিক এবং তরল জ্বালানিভিত্তিক এক হাজার ৯৯৭ মেগাওয়াট বা ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা চার হাজার ৯৩১ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে আট হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট হয়েছে। সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদন চার হাজার ১৩০ থেকে বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াট। সঞ্চালন লাইন সাত হাজার ৯৯১ সার্কিট কিলোমিটার থেকে বেড়ে হয়েছে নয় হাজার তিন কিলোমিটার। গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি আট লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ। মাাথাপিছু বিদ্যুত্ ব্যবহার বেড়েছে ২২০ কিলোওয়াট থেকে ২৯২ কিলোওয়াট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়। বর্তমান সরকারের সময় প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উত্পাদন বেড়েছে। সম্প্রতি সারাদেশে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সম্মেলনে সাত জেলা প্রশাসক নিজেদের এলাকায় বিদ্যুত্ বিভ্রাটের অভিযোগ করেন। বিদ্যুত্ বিভ্রাট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আগের চেয়ে এখন বিদ্যুতের অবস্থা বেশ ভাল। সন্ধ্যার পর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যুত্ পরিস্থিতি নিয়ে সারাদেশের মানুষ সন্তুষ্ট। পরিস্থিতির আরো উন্নতির চেষ্টা করছি। বিদ্যুত্ নিয়ে সরকারের অগ্রগতি জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের এলাকায় বিদ্যুতের কি সমস্যা আছে তাও জানার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা কিছু বিতরণজনিত সমস্যার কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্টদের তা সমাধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের দেয়া ১৬ দফা নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বৈদ্যুতিক স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান, বৈদ্যুতিক স্থাপনায় ভূমি অধিগ্রহণ, সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইন নির্মাণে রাইট অব ওয়ে প্রদান এবং এ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান। প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল আদায়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, ২০১২ সালে ডিসি সম্মেলনে যেসব সমস্যার কথা উঠে এসেছিল ইতিমধ্যে তার সমাধান করা হচ্ছে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, জ্বালানি সচিব মোজ্জামেল হক খান, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর, পিডিবি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব খান, আরইবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈদউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
