অপরাধ বিচারের ক্ষমতা পাচ্ছেন না ডিসিরা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৬
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে অপরাধ আমলে নেয়া এবং সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার জেলা প্রশাসকদের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগ আলাদা হওয়ার পর এ ধরনের ক্ষমতা অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে দেয়ার সুযোগ নেই। তবে আশা ঝুলিয়ে রেখে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূইঞা বলেন, তারা এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাবেন আইন মন্ত্রণালয়ে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করা প্রসঙ্গে সচিব বলেন সে সময় ডিসিরা ইসির অধীনে কাজ করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। আর মন্ত্রী পরিষদ সচিব দিনশেষে আশা ঝুলিয়ে রাখেন একটি প্রস্তাব দেয়ার কথা বলে। গত সাড়ে চার বছর ধরে এ দাবি ডিসিদের। নির্বাহী বিভাগকে বিচাররিক ক্ষমতা দেয়া হলে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় কোন অসুবিধা দেখা দিলে প্রয়োজনে আইনের ছোট খাট সংশোধনী আনা যেতে পারে। বৈঠকে সরকারি মামলা পরিচালনার স্বার্থে জিপি-পিপি নিয়োগ এবং তাদের দায়িত্ব ক্ষমতা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান বগুড়া ও কুমিল্লার জেলা প্রশাসকরা। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক জানান দণ্ডবিধি ২৯০ ধারার অপরাধের শাস্তি হিসেবে জরিমানা মাত্র ২০০ টাকা। ফলে এ আইনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, দণ্ডবিধি ২৯০ ধারার অপরাধের শাস্তি পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। আদালতে বিচারপ্রার্থী নারীদের জন্য প্রক্ষালন কক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মায়েদের সুবিধার জন্য ফিডিং রুম নির্মাণের প্রস্তাব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার । দেশের সব আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থী নারীদের জন্য প্রার্থনা কক্ষ ও দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মায়েদের সুবিধার জন্য ফিডিং রুম নির্মাণ করার আশ্বাস দেয় আইন মন্ত্রণালয়। বৈঠকে এক জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে মামলার সংখ্যা বাড়ছে। এখন দেশে ১০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা বিচার বিভাগ শেষ করতে পারছে না। আজ ডিসিদের হাতে ক্ষমতা থাকলে জনগণ উপকার পেতো। তিন দিনের ডিসি সম্মেলন শেষে প্রাপ্তির কথা জানতে চাইলে একাধিক ডিসি ইত্তেফাককে বলেন, সরকার তাদের কাছে যে প্রত্যাশা করেন, সেটি পূরণ করতে যে ধরনের সুযোগ ও ক্ষমতা থাকা দরকার ডিসিদের তা নেই। বারবার একই বিষয় উত্থাপন করেও লাভ হয় না। তাঁরা বলেন কিছু নির্দেশনা সরকারের পক্ষ থেকে থাকে কিন্তু নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই-কারণ সে ধরনের আইনী সুযোগ তাদের দেয়া হচ্ছে না। এটি তাদের মধ্যে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। অনলাইন পত্রিকায় গুজব বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ ডিসিদের অনলাইন পত্রিকায় অপপ্রচার ও গুজব বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইক ইনুর কাছে সুপারিশ করেছেন জেলা প্রশাসকরা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইন পত্রিকায় ভালো তথ্য ও খবর আসছে, এর সঙ্গে বহু অপপ্রচার ও গুজবও আসছে। এসব অপপ্রচার ও গুজব গণতান্ত্রিক শক্তিকে একটু বিঘ্নিত করছে ও অসুবিধায় ফেলছে। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন এখনো যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। জেলা প্রশাসকদের তিনি বলেন , তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে প্রত্যেকটি কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের দর্পণে ধরা পড়বে, আর গণমাধ্যমের দর্পণ কিন্তু শক্তিশালী।