গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও নোয়াখালীতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। এসময় ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। খবর আমাদের অফিস ও প্রতিনিধির।
রাজশাহী ঃ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর রানীবাজার এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বোয়ালিয়া মডেল থানার হাবিলদার নজরুল ইসলাম, পুলিশ লাইনের অজ্ঞাত পরিচয় একজন কনস্টেবল ও এক অজ্ঞাত পরিচয় একজন রিকশা চালক রয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান এবং রিকুইজিশন করা দুইটি হিউম্যান হলারে ভাংচুর চালায়। সংঘর্ষের পর রানীবাজার ও বাটার মোড়সহ গোটা সাহেব বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা জোহরের নামাজের পর নগরীর সাহেব বাজার গণকপাড়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বাটার মোড় হয়ে রানীবাজারের দিকে যাবার সময় পুলিশের মুখোমুখি হয়। এসময় মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
পুলিশ অর্ধতাধিক রাউণ্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে কর্তব্যরত বোয়ালিয়া মডেল থানার হাবিলদার নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হলে তিনি সেটি ডান হাত দিয়ে প্রতিরোধ করেন। ফলে ককটেলটি তার হাতে বিস্ফোরিত হলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল ও এক অজ্ঞাত পরিচয় রিকশা চালকসহ আরো ৯ জন আহত হন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে।
এদিকে ই-মেইলে পাঠানো মহানগর জামায়াতের প্রচার বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর সাহেব বাজার গণকপাড়া মোড় থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাটার মোড় হয়ে রানীবাজারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। জামায়াতের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংঘর্ষের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
নোয়াখালীঃ জেলা শহর মাইজদীতে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে শহর দারোগা জহির উদ্দিন, কনস্টেবল রফিক উল্যাহ ও পথচারী এবং দোকানিসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালে শিবির কর্মীরা উত্তরা ব্যাংক মাইজদীকোট শাখার গাড়িসহ ৫/৬টি গাড়ি ভাংচুর, ব্যাংক ভবনের গ্লাস, এনসিসি ব্যাংকের গ্লাস ও বিভিন্ন দোকানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
দোকানে হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ী নেতারা ও দোকানিরা দোকান পাট বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসময় শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুদ্ধাপরাধীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা বাদ জহুর জেলা জামে মসজিদ থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি জিলা স্কুলের সামনে যাওয়ার পর পুলিশী বাধার সম্মুখীন হলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় ইটের আঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবল আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ আসলে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ পৌরবাজার এলাকা থেকে শিবির কর্মী সন্দেহে ৩ যুবককে আটক করে।
