ইডি ডাক-কর্মচারীদের ফরিয়াদ শুনবে কে

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৩, ২১:০৮
বরাবরের মতো এ সরকারের আমলেও উপেক্ষিত শাখা ডাকঘর এবং অবিভাগীয় কর্মচারীরা। অভিযোগ রয়েছে, মূলত সংশ্লিষ্ট কতিপয় আমলার বিরুদ্ধাচারণ, উদাসীনতা ও অবহেলার ফলস্বরূপ এ বিভাগটির অবিভাগীয় কর্মচারীদের আজ করুণ দশা। তাদের ভাষ্যমতে, শাখা ডাকঘরে কাজ নেই। যদি তাই হয়,তাহলে শাখা ডাকঘরের প্রয়োজনীয়তা কী? কেন গ্রামীণ শাখা ডাকঘরের ২৪ হাজার কর্মচারীকে কোনো কাজ ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে? বাস্তব চিত্র কী জানেন, একটি শাখা ডাকঘরে প্রতিদিনই কাজ হয়। একজন ডাকপিয়নকে ৮/১০টি গ্রামে চিঠি, মানিঅর্ডার, চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড ইত্যাদি বিলি করতে হয়। রানারকে ৫/৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ডাক আনা-নেওয়া করতে হয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ দুটি স্তরে বিভক্ত। একটি বিভাগীয় আরেকটি হচ্ছে অবিভাগীয়। বিভাগীয় কর্মচারীগণ শ্রেণিভেদে পে-স্কেলে বেতনভাতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু অবিভাগীয় কর্মচারীগণ ন্যূনতম সম্মানীভাতা পেয়ে থাকেন যা কিনা ১০০০ টাকা বা তার চেয়ে কম। আজকের এই ব্যয়বহুল জীবনযাত্রায় যেখানে এক কেজি চাল ক্রয় করতে হয় ন্যূনতম ৩৫ টাকার বিনিময়ে সেখানে এহেন সম্মানীভাতা শুধু অমানবিক নয় অসম্মানজনকও বটে? গ্রামীণ ডাকঘরে তিনজন কর্মচারী আছেন। ডাক বিভাগের ভাষ্য মতে, একজন হচ্ছেন ইডিএ অথাত্ ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার। ইডিডিএ অর্থাত্ ডাকপিয়ন। অপরটি হচ্ছে ইডিএমসি অর্থাত্ রানার। বিভাগীয় কর্মচারীর মতো একজন অবিভাগীয় ডাক বহনকারী বা রানার ৫/৭ কিলোমিটার রাস্তা পার হয়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ডাক বহন করেন। অথচ বেতনভাতার ক্ষেত্রে তাঁরা ইডি কর্মচারী। বিভাগীয় কর্মচারীদের সঙ্গে ২৪ হাজার অবিভাগীয় কর্মচারীদের এই বৈষম্য কেন? বর্তমান সরকারের সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীসহ মাননীয় মন্ত্রী, এমপি গণের বেতনভাতা বাড়লেও বেতনভাতা বাড়েনি অবিভাগীয় ডাক কর্মচারীদের। শাখা ডাকঘরে বর্তমানে দৈনন্দিন কাগজপত্রের তীব্র সংকট চলছে। কাগজ কিনে কাজ করতে হয় ইডি কর্মচারীদের। মাসে যে ভাতা তাঁরা পান তার এক চতুর্থাংশ ব্যয় হয় কাগজ কেনায়। এছাড়া শাখা ডাকঘরের জন্য পৃথক কোনো কর্মকক্ষ নেই— ইডি-কর্মচারীদের নিজেদের বসত বাড়িতে, নিজেদের আসবাবপত্রেই চলছে শাখা ডাকঘরের কাজ। শুধু তাই নয়, অফিসারদের অযথা হয়রানি, অবৈধভাবে পুট অব ডিউটি,সামান্য ত্রুূটির জন্য ভয়-ভীতি দেখিয়ে উেকাচ গ্রহণ প্রভৃতি এ বিভাগটিকে কলুষিত করে চলেছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, বিভাগীয় কর্মচারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও ইডি কর্মচারীদের বেলায় তা নেই। তবু তাঁরা অন্যদের মতো এক দফা-তিন দফা নিয়ে আন্দোলনে নামেননি। হ্যাঁ সরকারের দৃষ্টির প্রত্যাশায় তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। সেবা দিচ্ছেন। সরকারের আয় বাড়াচ্ছেন। কারো ১২ বছর কারো ১৪ বছর কারো ১৮ বছর, কেউবা তার চেয়ে বেশি সময় পার করেছেন। কত সরকার পরিবর্তন হলো, কেবল পরিবর্তন হয়নি তাঁদের ভাগ্যের। অথচ অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায়ও এ রকম ডাকব্যবস্থা রয়েছে। সে দেশগুলোতে স্বতন্ত্র পে-স্কেলসহ একজন শাখা ডাক কর্মচারী বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী ৫০০০/৬০০০ টাকা পেয়ে থাকেন। তারপরও রয়েছে পেনশন, গ্রাচুয়িটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। উল্লেখ্য,বর্তমানে প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এ বিভাগটি তার আবেদন হারাচ্ছে বলে খোঁড়া যুক্তি দিলেও ভুল হবে বরং প্রযুক্তির প্রভাবে এ বিভাগটি এখনও জনগণের সেবাদানে সচেষ্ট ও অপরিহার্য। তথাপি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় অধীনে থাকা এ বিভাগটির অবিভাগীয় কর্মচারীদের প্রতি কেন সরকারের এ উপেক্ষিত দৃষ্টি তা অবিভাগীয় ২৪ হাজার ডাক কর্মচারীদের বোধগম্য নয়। তাদের দাবি— বিভাগীয় কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁদের বৈষ্যম্যের অবসান হোক। প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদেরকেও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হোক। তাদের এ ফরিয়াদ শোনার কেউ আছেন কি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়